
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৩

সাভারের আশুলিয়ায় উপার্জনের একমাত্র অটোরিকশাটি হারিয়ে স্ত্রীর সাথে কলহের জেরে এক স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর রিকশাচালক নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।শনিবার রাত ১০ টার দিকে ভাদাইল পবনারটেক রূপায়ন গেট এলাকার ফজর আলীর ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন, অটোরিকশাচালক ছবুর মিয়া, তার স্ত্রী রোজিনা বেগম ও নয় বছরের কণ্যা সুমাইয়া আক্তার। স্ত্রী রোজিনা স্থানীয় মেডলার এ্যাপারেলস গার্মেন্টের শ্রমিক। তাদের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার চরগ্রোব গ্রামে। নিহতের ভাই শহীদ আলী বলেন, গত ২ তারিখে একটা নতুন রিকশা কিনছে বড় ভাই। তিন তারিখ এক দুপুর চালাইছে রিকশা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে দুই বাটপার উঠছে রিকশায়।
উইঠা জামগড়া বঙ্গ মার্কেটের সামনে রিকশা থামাইছে। পরে কইছে একটা গ্লাস আনা লাগবো কইয়া আমার ভাইরে মার্কেটের ভিতরে নিয়া গেছে। রিকশায় আরেকজন বইসা আছিলো। মার্কেটের ভিতর রশি আনা লাগবো কইয়া ভাইয়ের সাথে যে আছিলো সেও ভাগছে। পরে রিকশার কাছে আইসা দেখে ভাইয়ের রিকশা নাই। ভাই আমারে কইছিলো, তোর ভাবিরে বলিস না। বললে সমস্যা আছে। পরে আমি কিছু কই নাই। অ্যারপর কাইলকা রাইতে ফোন দিছি ধরে নাই। সকালে ফোন দিছি তাও ধরে নাই। তখন আমার মনে সন্দেহ লাগলো কিছু করলো না কি ঝগড়া টগড়া কইরা। পরে সন্ধ্যার দিকে আমার বোনরে নিয়া আইসা দরজা সামনে ধাক্কাই আওয়াজ নাই। পরে দরজার নিচ দিয়া লাইট মাইরা দেখি ভাই ঝুইলা রইছে।

কি কারণে আত্মহত্যা করেছে এমন প্রশ্নে বলেন, কয়েকমাস আগে বাড়িত থাইকা জমি বন্দক রাইখা ৬০ হাজার ট্যাকা আইনা কিনছিলো রিকশাটা। আগে সাইডে কাজ করতো। যেখানে কাজ করতো সেখানেই টাকা মাইর যাইতো। এসব নিয়া ওরা ঝগড়া করছে মনে হয়।আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, ৯৯৯ এর সংবাদের ভিত্তিতে এখানে এসে আমরা তিনজনের লাশ সনাক্ত করি। স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের নয় বছরের শিশু মেয়ে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছি, স্বামী-স্ত্রীর কোন দ্বন্দের জের ধরে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই ব্যক্তি নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে লাস পোস্ট মর্টেমের পরে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা বিস্তারিত জানতে পারবো
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি