
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২১, ১:২৭

২২ দিন সারা দেশের ৩৮ জেলার ১৭৪টি উপজেলায় নদ-নদী এবং সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে রবিবার মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিক্রি ও বিনিময় আইনত দ-নীয়। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৩ লক্ষ ৭ হাজার ১২৪ জেলেকে সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
এদিকে আগামী ২২ দিন বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে না বলে রবিবার শেষ দিন বরিশালে ইলিশ কিনতে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ আড়তে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। কিন্তু বাজারে ইলিশ সরবরাহ কম থাকায় দাম আকাশচুম্বী। বরিশালের মৎস্য আড়তদাররা বলছেন, বাছাই করা ইলিশ ভারতে রফতানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে। নদীতেও তেমন ইলিশ আহরিত হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা শুরুর শেষ সময়ে বাজারে ক্রেতাদের সমাগম স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বাজার পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম সাধারণত সকাল ১০টার পর ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু রবিবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ইলিশ কিনতে। দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত বাজারে ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। ক্রেতারা বলছেন, আগামী ২২ দিন বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে না। অতিথি আপ্যায়নসহ নানা প্রয়োজনে ইলিশ প্রয়োজন তাদের। এ কারণে বাজারে এসেছেন তারা। তবে ইলিশের আকাশচুম্বী দাম হওয়ায় নাখোশ তারা। আর বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ইলিশের তুলনায় ক্রেতার সমাগম বেশি। ক্রেতারা শেষ দিনে কম দামে ইলিশ কেনার আশায় বাজারে আসলেও চড়া দাম হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। কেউ আবার বেশি দাম দিয়েও কিনছেন পছন্দের ইলিশ।
বাছাই করা ইলিশ ভারতে রফতানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পোর্ট রোডের মৎস্য আড়তদার মো. জহির সিকদার। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে বাজারে ক্রেতাদের এই ভিড় স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন বরিশাল মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, আগামী ২২ দিন বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে না। এ কারণে শেষ দিনে ক্রেতারা কম দামে ইলিশ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর রাত ১২টায় শেষ হবে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। এরপর থেকে ফের বাজারে ইলিশ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এদিকে মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। সরকারি এ নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। এ নির্দেশনা অমান্য করলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা। নিষেধাজ্ঞার এ সময়কে ঘিরে বিভাগের ছয় জেলার জেলে পরিবারের জন্য ৬ হাজার ৯৪২.৪৮ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তর। ফলে প্রতি পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাবে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ইলিশ মাছ আহরণ করে এমন জেলের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ১১৯ জন। এছাড়া জাটকা মাছ আহরণ করে এমন জেলের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৮৯৯ জন। এই ৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ১৮ জন জেলের মধ্যে ৩ লক্ষ ৭ হাজার ১২৪ জেলে পরিবার পাবে এই সহায়তা।
মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার জানান, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ মৌসুমে কেউ মাছ আহরণে নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাবে। প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসব চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত জেলেদের ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেবেন। তিনি বলেন, সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে গত কয়েক বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।