প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪:৩৭
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে আমাদের অর্জন ঈর্ষণীয়। এই অগ্রগতি থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। যেই দেশের আলো-বাতাসে শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছি সেই দেশের নিরাপত্তার চাহিদা পূরণে নিষ্ঠা, সততা ও ঈমাণের সাথে কাজ করার জন্যেই আমাদের স্পেশাল করে নিয়োজিত করা হয়েছে। পুলিশ সার্ভিস কোন চাকুরী নয়, এটা দায় এবং একটি সেবা। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ লাইন্স ড্রীলশেডে মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, ১৯৭১ সালে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আমরাই প্রথম পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। করোনাকালের প্রথম ডাকে আমাদের ১০৭ জন পুলিশ সদস্য নিজেদের জীবন ত্যাগ করে শহীদ হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছেন আমাদের হাজার হাজার সদস্য। আমরা জাতিসত্ত্বা, ভাষা, সাহিত্যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ঐতিহ্যবাহী গর্বিত পুলিশ বাহিনী। আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য যেকোনো ধরণের ত্যাগ স্বীকার করতে পারি।
অপরিনামদর্শী, অপেশাদার আচার-আচরণে আমাদের সেই ইজ্জত ঐতিহ্যকে পেছন থেকে টানা কোন সদস্য আমরা চাই না। তাদের সংশোধন হয়ে সুশৃঙ্খলের পথে থেকে কাজ করতে হবে নতুবা চিহ্নিত করে আইন মোতাবেক শাস্তির আওতায় এনে তাদেরকে বাহিনী থেকে বাদ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন,একটি কৃতার্থ প্রজন্ম হিসেবে মুক্তি যোদ্ধাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্বেলিত হয়ে, তাঁদের আদর্শের ধারক বাহক হিসেবে চেতনা জাগ্রত সেবামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। একজন গর্বিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমাদের নিয়ে যেন পরিবারের সকল সদস্যরা অহংকার করতে পারে সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। শৃঙ্খলার ভেতর থেকে জনগণের আস্থা রেখে তুলনামূলক চিত্রে সাম্প্রতিক বছরে প্রমাণ করেছি, বিএমপি অন্যান্য ইউনিটের কাছে একটা সৃজনশীল উদাহরণ।
নিয়মিত প্যারেড অনুশীলনের মাধ্যমে শারীরিক কাঠামো ও সক্ষমতা ঠিক রেখে সৌহার্দপূর্ণ কর্মপরিবেশের মধ্য দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে জনগণের পুলিশে রূপান্তরিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রেখে পরজগতের মুক্তির দ্বারা পরিপূর্ণ জীবন লাভ সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) প্রলয় চিসিম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর-দপ্তর) মোঃ নজরুল হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সাপ্লাই এ্যান্ড লজিস্টিকস্) মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেন্স এন্ড প্রসিকিউশন) মোঃ মোকতার হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম-বার, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা-বিপিএম বার, উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোঃ মনজুর রহমান পিপিএম বারসহ বিএমপি'র অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা বৃন্দ।