
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:১৬

‘আপনার পুলিশ, আপনার পাশে। তথ্য দিন সেবা নিন। বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’- এসব শ্লোগানে বরিশালে আবারো চালু হলো বিট পুলিশিং কার্যক্রম। প্রত্যন্ত গ্রামের অপরাধ নির্মূল ও পুলিশ জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠার শুরুতেই দেশে মহামারী করোনা ভাইরাস আক্রমন করে। ফলে বিট পুলিশিং কার্যক্রম কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে। অবশ্য করোনাকালীন সময়ে বিট অফিসারগণ তাদের নিজ নিজ বিট এলাকার জনগণের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার পর বরিশাল মহানগরীতে আবারো শুরু হয়েছে বিট পুলিশিং কার্যক্রম। জানা গেছে, দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মাঠ পর্যায়ে বিট পুলিশিং কাজ চলমান থাকবে এবং এর সুবিধা পাবে সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি জনমুখী করা, মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হয়। যার ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বরিশাল নগরীর ২০নং ওয়ার্ডে বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান (বিপিএম-বার) বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধনের পরপরই বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় শুরু হয় বিট পুলিশিং কার্যক্রম। বিএমপির চারটি থানাকে ১৯৭টি বিটে ভাগ করে প্রতি বিটে একজন উপ-পরিদর্শক পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও আরো পুলিশ সদস্যরা কাজ শুরু করেন।
বিট পুলিশিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে সারা ফেলেছে বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ক্রমেই প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে অপরাধ নির্মূল ও জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে বিট পুলিশিং কার্যক্রম। যা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চারটি থানায় আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের বক্তব্যে উঠে এসেছে। জানা গেছে, মহামারী করোনার পর বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরুটা এবার ভিন্ন আঙিকে করা হয়েছে। এবার কেবল বিট কার্যালয়ে নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে উঠান বৈঠক, হাট-বাজার এলাকায় পথসভা এবং বিট কার্যালয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে নিয়ে সভা করা হচ্ছে। সরেজমিনে নগরীর কাউনিয়া বিসিক এলাকায় গত বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআই সাইফুল ইসলাম, পিএসআই মহিউদ্দিন ও এএসআই মনোশীষ মজুমদারকে পথসভা করতে দেখা গেছে। যেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা শেষে কথা হয় সোবাহান তালুকদার নামে এক ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি জানান, “পুনরায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি আজ জেনেছি”। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আগে পুলিশের কাছে যাওয়া লাগলেও এখন পুলিশ আমাদের কাছে আসে। ফলে এলাকার নানান সমস্যা বড় আকার ধারণ করার পূর্বেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে”।
কাউনিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, করোনাকালীন সময়ে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ওসি স্যারের নির্দেশে কাউনিয়া আরজু মনি স্কুল, কমিশনার গলি, বিসিক রোড, পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় তিনি আজ (বুধবার) ৪টি স্থানে বিট পুলিশিং সভা এবং একটি কমিউনিটি পুলিশিং সভা করেছেন। এতে উপস্থিত সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অংশগ্রহণ করেছেন।
নগরীর মথুরানাথ পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান পুলিশ কমিশনার বরিশালে যোগ দেয়ার পর থেকেই সুষ্ঠু ও সুন্দর নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং এবং বর্তমানে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হওয়ায় স্কুল-কলেজ, অলিগলিতে বখাটেদের আড্ডা নেই। তাছাড়া অভিভাবকগণও আগের চেয়ে তাদের সন্তানদের প্রতি অনেক সচেতন হয়েছে। তিনি পুলিশের এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও আহবান জানান।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম জানান, মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেয়াই হচ্ছে আমাদের কাজ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিট পুলিশিং-ই নয়, প্রত্যেক মাসে থানায় “ওপেন হাউজ ডে”, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ওই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে ওই কার্যক্রমগুলোও খুব শীঘ্রই চালু হবে বলে জানান তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জনগণের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে বলেন এ কর্মকর্তা।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (কাউনিয়া থানা) রুহুল ইসলাম শামীম জানান, করোনার সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চললেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় প্রত্যেকটি বিটে-ই আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান (বিপিএম-বার) বলেন, আর্থ সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন মাপকাঠিতে বাংলাদেশ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে এবং টেকসই করতে হলে টেকসই সুষ্টুআইন শৃঙ্খলার কোন বিকল্প নেই। আর টেকসই আইনশৃঙ্খলার জন্য জনগণের সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা অত্যাবশ্যক। পুলিশের ভূমিকাকে আরও উজ্জ্বল এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট কাটিয়ে পুলিশ-জনতা সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বিট পুলিশিং। তিনি আরো বলেন, “অপরাধ নির্মূলে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের লোকজনকে সম্পৃক্ত করে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে, নির্ভেজাল আইন প্রয়োগ করে অপরাধ দমন করার মাধ্যমে নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে চাই। এক্ষেত্রে জনসাধারণ পুলিশকে সহায়তা করলে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।