
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২১, ২০:৪৯

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোনালী আঁশ পাট চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মূখে হাসি ফুটেছে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে পাটের কচিপাতা দুলে বাতাসে ঢেউ খেলছে সাথে দুলছে কৃষকের স্বপ্নও। পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, রোদে শুকানোর পর প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সোনালী আঁশ পাটের উৎপাদন ভান্ডার খ্যাত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় চলতি
মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ পাটের আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় এবং আগাম বন্যা না হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। পাটের এমন বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পানির সঙ্কটে দূর দুরান্তে নিয়ে পাট জাগ দেয়ায় পরিবহন খরচ ও শ্রমিক সংকটে শ্রমমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা বিধ সমস্যাসহ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩হাজার ৯'শ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৪হাজার ২'শ ৮০হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এবার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উন্নতমানের বীজ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।
উজানচর ইউপি ২নং নবুওছিমুদ্দিন পাড়া এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮থেকে ১০মন পাট উৎপাদন হয়েছে। সার, বীজ, নিরানী ও পাট কাটা, জাগ দেয়ার জন্য কামলা, জাগ দেয়ার পরিবহন খরচ বাবদ সব মিলিয়ে খরচ প্রতিবিঘায় ১০থেকে ১২হাজার টাকা। বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ২হাজার ৬'শ টাকা থেকে ৩হাজার টাকার মধ্যে। মৌসুম শেষ পর্যন্ত দাম এভাবে থাকলে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হবে এবং পাট চাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার কৃষক সালাম শেখ বলেন, গত বছর ৭ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ভাল দাম পাওয়ায় এবার ১২ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছি ফলন ভাল হয়েছে। পরিবহন খরচ, শ্রমিক সঙ্কটে শ্রমমূল্য বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও ফলন ও দাম বেশী পাওয়ায় আমরা লাভবান হচ্ছি। আশা করছি আগামী মৌসুমে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরো বেশী হবে।গোয়ালন্দ বাজারের মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক মজিবর রহমান মজি জানান, এবার এ অঞ্চলে ব্যাপক পাটের আবাদ হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার পাটের মানও ভাল। ফলে কৃষকরা দামও ভাল পাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর গোয়ালন্দ উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের এ বছরের টার্গেট ছিল ৩হাজার ৯শ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ, অর্জিত হয়েছে ৪হাজার ২শ ৮০হেক্টর। এবার পাটের ব্যবসাও ভালো এবং এ কাজটা সম্ভব হয়েছে আমাদের মাঠ কর্মী যারা উপসহকারী কর্মকর্তা আছেন তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করে তারা সুষম সার ব্যবহার করতে পারছে জমিতে এ কারনেই পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।