প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১, ৫:৪৭
টাঙ্গাইলে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার আকুর টাকুর পাড়ায় হাউজিং মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মাসুদ গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনায় রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন ওই সাংবাদিক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাসুদ তার নিজ বাসা থেকে বের হয়ে একাই টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছিলো। পথে আকুর টাকুর পাড়ায় হাউজিং মাঠ এলাকায় পৌছলে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেন এবং তার ছেলে মির্জা সিয়াম আনোয়ার বিশালসহ আরো অনেকেই মোটরসাইকেল গতিরোধ করে।
পরে মীর্জা আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে তার ছেলেসহ ৫ থেকে ৬ জন প্রথমে মাসুদকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। মাসুদ গালি গালাজ করতে মানা করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি এবং লাঠি মারে।
এসময় মাসুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাসুদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৩ থেকে ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেন ও তার ছেলে মির্জা সিয়াম আনোয়ার বিশাল, মো. রাফি এবং মো. রাকিব ।
আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ছিনতাইকারী ও মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেনের ছেলেসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এ সংক্রান্ত একটি নিউজ গত বছরের ১ মে করা হয়।
এরই জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মীর্জা আনোয়ার হোসেনে নির্দেশে আমাকে হত্যার চেষ্টা এবং মারধর করা হয়। পরে আমি স্থানীয়দের সহযোগীতায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই থানায় মামলা দায়ের করি। আমি এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি করছি।
টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মোরাদুজ্জামান বলেন, থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে সাংবাদিক মাসুদের উপর হামলার ঘটনায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলাসহ কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।