প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২১, ২০:১৪
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় হঠাৎ করে পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।সরজমিনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়,দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মজিদ শেখের পাড়ায়
ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত। কেউ ঘরের খুঁটি খুলছেন, কেউবা অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন ঘরের চাল। চোখের সামনে রাক্ষুসী পদ্মার হিংস্র থাবায় একে একে গ্রাস করছে বসতভিটা। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানাযায়, ১ ঘন্টার ভাঙনে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে ১৫০ মিটার এলাকায় ১৫ টি বসতবাড়ী।স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবস্থাপনার কারণে ১০ মিনিটের ভাঙনে ১০-১৫টি বাড়ী পদ্মায় বিলীন হয়েছে। পদ্মা পারের আরও শত শত স্থাপনা হুমকির মধ্যে রয়েছে। লঞ্চঘাটের এলাকায় কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ মজিদশেখের পাড়া এলাকায় এ বছর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এ বিস্তীর্ণ এলাকা।
এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফা মুন্সী জানান, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে পাউবোসহ ঊর্ধ্বতন মহলকে বিস্তারিত অবগত করা হয়েছে। জরুরি নদী শাসনের কাজ না করা হলে মানচিত্র থেকে হয়ত দৌলতদিয়ার নাম মুছে যাবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজিজুল হক খান মামুন বলেন, হঠাৎ করে পদ্মায় নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভাঙনের কথা জানার পর প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে তাদের ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে দৌলতদিয়ি ইউপি চেয়ারম্যান আঃ রহমান মন্ডল জানান, দ্রুত স্থায়ী নদী বাঁধের কাজ না করলে অস্তিত্ব বিলীন হবে পুরো দৌলতদিয়া ঘাট। এ চিন্তা ও হতাশায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এ এলাকার মানুষ।