
প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২১, ২৩:১১

একদিকে কঠোর লকডাউন, তার মধ্যে সকাল থেকে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে আবার সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ সড়ক ফাঁকা।
অথচ এর আগে গতকাল কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল রাজধানীতে। তবে সেদিন জরিমানা গুণতে হয় অনেক যানকে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার বেশি। তবে আজ সড়কে জরুরি যানবাহন চলতে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল একেবারেই কম।
শুক্রবার (২ জুলাই) সরেজমিনে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলি, মিরপুর, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, মগবাজার ও শান্তিনগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়-এসব সড়কে গাড়ির সংখ্যা ছিল কম। যে কয়টি গাড়ি বের হয়েছিল সেগুলোকে আবার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে পড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে বন্ধ থাকতে দেখা গেছে বেশিরভাগ দোকানপাট। তবে সামান্য কিছু খাবার ও অন্যান্য জরুরি সেবার দোকানপাট খোলা থাকলেও সেগুলো ছিল ক্রেতা শূন্য।
কারওয়ান বাজার এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে। তারা যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাইরে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার অপ্রয়োজনে বর হলে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তবে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের যানবাহন যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সোহেল রানা জাগো নিউজকে জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেও পুলিশের চেকপোস্টে ছিল কড়া। কিন্তু গতকালের চাইতে আজ মামলার সংখ্যা কম। আজ সড়কে বেশিরভাগ গাড়িই জরুরি চলাচলের জন্য বের হয়েছে। বিনা কারণে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সংখ্যাটাও কম।
এদিকে, লকডাউন প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রজ্ঞাপনে যাদের বের হওয়ার অনুমতি আছে আজ শুধু তারাই বের হচ্ছেন। তবে অনেকের অভ্যাস প্রথম দুই দিন মানার পর আর কেউ নিয়ম মানতে চান না। তবে ডিএমপি সদস্যরা লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, কেউ অকারণে ঘর থেকে বের হলে জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ব্যবস্থা নেব। কেউ অকারণে বের হলে তাকে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে, যেটি আমরা এর আগে কখনও করিনি। এবারে আমরা এই অবস্থান পর্যন্ত যাব। আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থায় থাকব।