
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২১, ২১:২৬

সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন দির্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের বৃহত্তর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঢাকা ও ঘরমূখো মানুষ করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়ে সকল বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নদী পারাপার হচ্ছে।
কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থবিধি মানা তো দুরের কথা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই। এতে করে করোনা সংক্রমনরোধে কঠোর অবস্থান ভেস্তে যেতে বসেছে।
সড়কে কড়া নজরদারি। প্রশাসন যানবাহন থামিয়ে নামিয়ে দিচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু এরপরো দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে মানুষের পারাপার থামানো যাচ্ছে না।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার গত ২২ জুন থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে ফেরি চলাচল। তাই মহাসড়কে বাধা পাওয়া যাত্রীরা বিকল্প পথ দিয়ে ঘাটে এসে নদী পার হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল ১০ টায় ঘাট এলাকায় দেখা যায় মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল করে ঘাটে আসছে যাত্রীরা। আর এরা সবাই রেগুলার ভাড়ার ২ থেকে ৩ গুন বেশি ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌছাচ্ছেন।
প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে সড়ক মহাসড়ক এড়িয়ে গ্রামের ভিতর দিয়ে আসছেন তারা।

বর্তমানে দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট সচল আছে, এ চারটি ঘাটে ফেরি ভিড়ছে। দক্ষিণাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন গুলো ফেরিতে উঠছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যানবাহন ও যাত্রীরা ফেরিতে স্বাভাবিকভাবে পারাপার হচ্ছেন।
পাশাপাশি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিতেও পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রী ও অন্যান্য যানবাহন দেখা যায়। এ সময় দেখা যায় অনেক যাত্রী ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে দিলে তাতে ঝুঁকি নিয়েই উঠে পড়ছেন।
মধুখালি থেকে আসা যাত্রী খাইরুল আলম বলেন, মোটরসাইকেল করে গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত আসি পুলিশের বাধা পেয়ে নেমে গ্রামের রাস্তা দিয়ে দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে ইজিবাইক করে ঘাটে আসলাম। এখন ঘাট পার হয়ে রিক্সা, ভ্যান, মোটরসাইকেল যা পাই তাতে করে আশুলিয়া যেতে হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে মাহিন্দ্র, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মটরসাইকেল করে অনেকে ঘাটে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ ধরনের গাড়ি দেখলে পুলিশ গতিরোধ করে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের ( বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারি মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, আমাদের নির্দেশনা আছে পণ্যবাহী ট্রাক, জরুরী সেবার যানবাহন ছোট গাড়ি পারাপার হতে পারবে। কিন্তু এরপরও ফেরি ঘাটে ভেড়ার সুযোগে যাত্রী উঠে পরছে এতে আমাদের কিছু করার থাকছে না।
তিনি আরো জানান বর্তমানে দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলিয়ে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে।