প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২১, ০:৫৩
জেলায় প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটিয়ে হাটের আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, হাটে অন্তত পক্ষে প্রশাসনের নজরদারি থাকা দরকার ছিল। তবে হাটে হাজার হাজার পশু উঠলেও ক্রেতাদের ভিড় তেমন একটা নেই।
কুষ্টিয়ার পশু দেশে চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কোরবানির ঈদের আগে এখানকার হাট-বাজার থেকে ব্যাপারীরা গরু কিনে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। এবার সেই সংখ্যা অনেক কম। জেলায় বড় পশুর হাট রয়েছে ১২টি। এসব হাট ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোট ছোট হাট-বাজারে বিক্রির জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন খামারিরা।
শনিবার জেলার সবচেয়ে বড় হাট বসেছিল সদর উপজেলার আলামপুরের বালিয়াপাড়া মাঠে। সাপ্তাহিক এই হাটে গ্রামের হাজার হাজার কৃষক গাদাগাদি করে পশু বিক্রি করতে আসেন। সেখানে ছিল না সামাজিক দূরত্ব, মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। কারও মুখে ছিল না মাস্ক। অথচ কুষ্টিয়ায় প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।
শুধু সদর উপজেলায় গড়ে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ৩০ জন। সোমবার (১২ জুলাই) জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬। সব মিলে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় হাজার ছুঁই ছুঁই। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটিয়ে পশু হাটের আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা কয়েক হাজার গরু নিয়ে হাটে এলেও কেনাবেচা একদম কম। ক্রেতা না থাকায় অনেক কম দামে গরু বিক্রি করতে হয়েছে খামারিদের। করোনা মহামারিতে গরুর দাম না পেয়ে দিশেহারা কৃষকরা। তারা মোটা অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, হাটে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছিল। অনেক মানুষের সমাগম হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠিন ছিল। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।