
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২১, ৯:৫৫

বরিশাল-৪ আসনের (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) এমপি পংকজ নাথের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার সিকদার গতকাল বুধবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন, সৈয়দ মঞ্জুর মোরশেদ, মহিম দেওয়ান, বড়জালিয়া ইউনিয়নের মো. অলিউদ্দিন ও হেলাল সিকদার।
এ ঘটনায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলার বাদী হিজলা উপজেলার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম সরদার জানান, খেয়াঘাট নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এনায়েত হোসেন হাওলাদারের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় সাংসদ পংকজ নাথের গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।
অন্যদিকে, এনায়েত হোসেন হাওলাদারের অভিযোগ, তাঁকে পরাজিত করতে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এমপি পংকজ নাথ ওইদিন রাতে সভায় চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন পণ্ডিতকে বিজয়ী করতে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ সংক্রান্ত ভিডিও জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
এনায়েত হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এই মামলা সাজানো। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীসহ তাঁর কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে।

জেলার সহকারি পুলিশ সুপার (হিজলা) মো. মতিউর রহমান জানিয়েছেন, হিজলা উপজেলার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম সরদারের সঙ্গে বড়জালিয়া ইউপি নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনায়েত হোসেন হাওলাদারের দ্বন্দ্বের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ও গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে দলীয় কর্মসূচি শেষে হিজলা ডাকবাংলোয় বিশ্রাম নেওয়ার পর পংকজ নাথ তাঁর লোকজন নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের উদ্দেশে পুরাতন হিজলা ফেরিঘাটের দিকে রওয়ানা হন।
এমন সময় হিজলা উপজেলার খুন্না বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বের হয়ে পংকজ নাথের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পংকজ নাথকে বহনকারী গাড়িটির পাশের কাঁচ ভেঙে যায় এবং গাড়ি চালক শুক্কুর আহমেদ আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থানীয়দের ধারণা, বিকেলে বড়জালিয়া ইউনিয়নের দলীয় অনুষ্ঠানে সেখানকার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনায়েত হোসেনের বিপক্ষে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পণ্ডিত শাহাবুদ্দিন আহম্মেদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জের ধরে পংকজ নাথের ওপর এই হামলা হয়েছে।
হিজলা থানার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘সাংসদ পংকজ নাথের ওপর সরাসরি নয়, তাঁর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। তাঁর গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে।’