
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২১, ১৩:১৮

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ইউনিক আইডির জন্য ছবি তুলতে এসে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকলে ওসি মোঃ হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার দক্ষিন ইন্দুরকানী এলাকা থেকে ধর্ষক মাসুম (৩০) ও স্কুল ছাত্রীর প্রেমিক তরিকুল ইসলাম (১৭)কে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার সকালে স্কুল ছাত্রীর নানী গোলাপজান বিবি বাদী হয়ে ধর্ষক মাসুম হাওলাদার ও স্কুল ছাত্রীর প্রেমিক তরিকুল ইসলামকে আসামী করে ইন্দুরকানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকালে পাশর্^বর্তী মোড়েলগঞ্জ উজেলার চরহোগলাবুনিয়া মমিনউদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী তার স্কুলের জন্য ছবি তুলতে ইন্দুরকানী উপজেলার ঘোষেরহাট বাজারে আসে। তখন ওই স্কুলছাত্রী একই এলাকার প্রেমিক মোয়াজ্জেম খানের ছেলে তরিকুল ইসলামের সাথে দেখা করেন।
এ সময় তরিকুলের খালাতো দুলাভাই দক্ষিন ইন্দুরকানী গ্রামের আঃ রহমান হাওলাদারের ছেলে দুই সন্তানের জনক মাসুম হাওলাদার তাদের কে দেখে তার বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তরিকুল কে আগে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু স্কুুল ছাত্রী কে মাসুম নিজের বাড়ীতে না নিয়ে দক্ষিন ইন্দুরকানীর জব্বার মৃধার ছেলে এনামুল মৃধার বাড়ীতে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।
পরে স্কুলছাত্রী দুই দিন পর কৌশলে অন্য একজনের ফোন দিয়ে কল করে তার প্রেমিক তরিকুলকে বিষয়টি জানালে তরিকুল স্কুল ছাত্রীর স্বজনদের জানান। পরে স্কুল ছাত্রীর মামা রফিকুল ইসলাম ইন্দুরকানী থানা পুলিশের সহযোগীতায় শুক্রবার রাতে এনামুলের বাড়ী থেকে তাকে উদ্ধার করেন।

স্কুল ছাত্রীর নানী জানান, আমার নাতনী এতিম ছোট বেলায় মা-বাবার বিচ্ছেদ গেছে। বাবা অন্যত্র বিবাহ করে থাকেন। আমার নাতনী ছবি তুলতে এসে বাড়ীতে না গেলে অনেক খোঁজাখুজির করে দুই দিন পরে তরিকুলের মাধ্যমে জানতে পারি তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তখন পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করি।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মাসুম ও স্কুল ছাত্রীর প্রেমিক তরিকুলকে গ্রেফতার করে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমটে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।