
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১১

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে ভয়াবহ দুটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে গেছে ১১ টি পরিবার।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উজানচরের দুদুখান পাড়া এবং দেবগ্রামের জটু মিস্ত্রির পাড়ায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা দুটি ঘটে। ইফতারির আগে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে চুলোর আগুন থেকে অসাবধানতাবশত এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুনে নিঃস্ব হয়ে গেছে ৬টি পরিবার।
দুদুখান পাড়ায় জাহাঙ্গীর মোল্লা এবং জটু মিস্ত্রী পাড়ায় ফারুক শেখের বাড়ির রান্না ঘর হতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে স্হানীয়রা জানান।
খবর পেয়ে দুদুখান পাড়ায় গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের একটি দল এবং জটু মিস্ত্রি পাড়ায় রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনা স্হলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।কিন্তু ততক্ষণে উভয় এলাকার ১১ টি পরিবারের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিবারগুলো এখন খেলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন যাপন করছে।
দুদুখান পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন, মোজাফফর মোল্লা, জাহাঙ্গীর মোল্লা, মাইনদ্দিন মোল্লা, আবদুল বিশ্বাস, জুলহাস এবং প্রতিবন্ধী মজনু বিশ্বাস।
জটু মিস্ত্রি পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, ফারুক শেখ,মোহাম্মদ আলী শেখ, মমিন শেখ,কাঞ্চন শেখ এবং ময়না বিবি।তারা তাদের বসত ঘরসহ সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখানে আগুনে পুড়ে মারা গেছে ৫ টি ছাগল।
সরেজমিন রবিবার সকালে দেখা যায়, উজানচর দুদুখান পাড়ার সম্ভ্রান্ত কৃষক মোজাফফর হোসেন।আগুনে তার ৪ টি চারচালা বড় বসত ঘর,দুটি রান্না ঘর,৭০/৮০ মন কৃষিপণ্য ও বহু আসবাবপত্র, নগদ অর্থ,সকল পোশাক-পরিচ্ছদ ও স্বর্ণের গহনা পুড়ে গেছে ।তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ২৫/৩০ লাখ টাকা।
মোজাফফর মোল্লার মেজ ছেলে আবু বক্কার মোল্লা বলেন, আমাদের সাজানো-গোছানো বিশাল সংসার ছিল।আগুণে মহুর্তের মধ্যে সব শেষ করে দিল।জানি না আমাদের কপালে কি রয়েছে। প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মজনু একমাত্র থাকার ঘরটি হারিয়ে বৃদ্ধা মা'কে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

উজাচরের স্থানীয় ইউপি সদস্য চুন্নু মীর মালত জানান,তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা মূহুর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আসায় পুরো গ্রাম আগুন থেকে রক্ষা পায়।
গোয়ালন্দ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাষ্টার আব্দুর রহমান জানান, কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দুটি বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও আমরা চেষ্টা করেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যতটা সম্ভব কমাতে।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন ফকির ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে আজ রবিবার আগুনে পোড়া ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক পরিবার কে ২ বান্ডিল করে টিন, ৬ হাজার নগত টাকা ও শুকনো খাবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।
#ইনিউজ৭১/জিয়া/২০২১