
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২১, ১৩:৫৭

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরে কৃষক জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছেন। কৃষকের প্রধান আবাদ হলো এই বোর আবাদ। সারা বছরের খাদ্যের যোগান আশে এই আবাদ থেকে। তাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সব মাঠেই এখন বোর ধান ফসলের আবাদ শুরু হয়েছে।
চারা রোপনের পর দ্বীতীয় দফায় কৃষকেরা ধান গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। এরই মধ্যে ধান গাছের পাতা গুলো সবুজে ভরপুর হয়ে উঠছে। যে দিকেই চোখ যায় এখন শুধু মাঠের পর মাঠ সবুজ আর সবুজ। কৃষকেরা এখন জমিতে নিড়ানী সহ ধান গাছের আগাছা পরিস্কার করছেন।
এবং এর পাশাপাশি পোকা মাড়কের হাত থেকে ধান গাছ রক্ষায় ঔষধ স্প্রে করছে। উপজেলার প্রতিটি মাঠেই এখন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত দেখা যায় কৃষক সাথে কৃষাণীরাও ধান গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত। আর এই সবুজ ধানের পাতায় দৃলছে কৃষকের স্বপ্ন।
উল্লাপাড়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এবারের মৌসুমে বোর ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৩২ হাজার ২শ ৩৫ হেক্টর। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫০ থেকে ৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। যা এবার উৎপাদন লক্ষমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। এ অঞ্চলে ব্রি-২৯ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও ব্রী-২৮,ব্রী-৮৯,ব্রী-৮১ এবং (হাইব্রীড) তেজ,হীরা ধানের আবাদ হয়েছে।
উপজেলার শিবপুর গ্রামের মাঠে দেখা যায় ধান গাছ নিড়াতে কৃষক সাথে কৃষাণীরা দল বেধে মাঠে কাজ করছেন।এসময় দেখা যায় তারা জমির আগাছা পরিস্কার করছেন। কথা হয় শিবপুর গ্রামের কৃষক মমিনের সাথে তিনি বলেন,প্রতিবছরের মতো এবারো ভালো ফলন পাবার আশায় ধান গাছ পরিচর্যা করছি। এবারে ধান গাছ অনেক সুন্দর হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোন ধরনের পোকার আক্রমন হয় নাই,এবং আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। তার পরেও আগাছা পরিস্কারের পাশাপাশি পোকা মাড়কের হাত থেকে ধান গাছ রক্ষায় ঔষধ প্রযোগ করা হচ্ছে। তবে আশা করা যায় প্রতি বারের চেয়ে এবারে ফলন ভালো হবে।
আর এ ফসল ঘিরেই কৃষক তার এক বছরে সংসারের আয় ব্যয়ের হিসাব করে থাকেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমী বলেন,কৃষক প্রথমে চারা রোপন শেষ করেছে। এখন সেই হলুদ বর্ণের চারা গাছ জমিতে সবুজে পরিনত হয়েছে।
আর সুন্দর সোনালী ফসল সঠিক ভাবে ঘরে তোলার জন্য তারা দিন রাত পরিশ্রম করছেন। এখন পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যা দেখা যায়নি। এছাড়ায় কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষকদেরকে বোর ধান সহ বিভিন্ন ফসল আবাদে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এবং কোন রকমের সমস্যা দেখা দিলে কৃষি অফিসের সহযোগীতায় কীটনাশক ব্যবহারে পরামর্শ দেয়া হয়।