
প্রকাশ: ৮ মার্চ ২০২৩, ০:০

লালমনিরহাটে তামাক চাষের পরিবর্তে বিদেশি ফসল সুপারফুড চিয়া বীজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ বছর প্রায় ৬ একর জমিতে ওষুধি ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন চিয়া বীজ চাষ হয়েছে।এ থেকে আশানুরপ ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। গেল বছর এ জেলায় প্রথম ৯জন কৃষক দুই একর জমিতে এ ফসলের চাষ করেছিলেন। অনেক কৃষকের এ ফসলটি চাষের আগ্রহ থাকলেও বীজ না পাওয়ায় তারা তা চাষ করতে পারেননি। আগামি বছর বীজ সরবরাহ পেলে উৎসাহী কৃষকরা চিয়া বীজ চাষ করবেন। বাজারে চিয়া বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ফসল বিক্রি করে কৃষকরা দামও পাচ্ছেন আশানুরুপ।
কৃষি বিভাগ সু্ত্রে জানাগেছে, আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরু অঞ্চলগুলিতে চিয়া কীজের ব্যাপক চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিয়া বীজ চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। চিয়া বীজে ওমেগা-৩, ফাইবার, ম্যাংগানিজ, ফসফরাস, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, থায়ামিন, নিয়াসিন, আয়রণ, দস্তা, ফ্যাটিক এসিড ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। ”চিয়া বীজ চাষ পদ্ধতি খুবই সহজ ও কম খরচে বীজ উৎপন্ন করা যায়। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ ফসলের চাষ করা হয় আর ফসল তোলা শুরু হয় মার্চের মাঝামাঝি। “চিয়া বীজ দেখতে তিলের মতো এবং এ বীজ সাদা ও কালো উভয় রঙের হয়ে থাকে। চিয়া বীজে সহজে পোকামাকড় আক্রমণ করে না,’ । চিয়া বীজ চাষ অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় হাতীবান্ধা উপজেলার জাহিদুল ইসলাম ও ফারহানা আক্তার মুমু কৃষক ও উদ্দ্যোগতা দম্পত্তির হাত ধরেই গেল বছর জেলায় প্রথম চিয়া বীজ চাষ শুরু হয়।ওষুধি ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফসল উৎপাদন অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ জনক হওয়ায় চলতি বছর হাতীবান্ধা উপজেলা সহ জেলার ৬ একর জমিতে চিয়া বীজ চাষ হয়েছে। অনেকেই তামাক চাষ ছেড়ে বিদেশি ফসল সুপারফুড চিয়া বীজ চাষ করেছেন। সঠিক পরিচর্চা ও আবহওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি শতাংশ জমিতে ২থেকে ৪কেজি ফসল উৎপাদন সম্ভব।যার প্রতি কেজির মুল্য ৯শ থেকে ১হাজার টাকা।
হাতীবান্ধা উপজেলার সারডুবি এলাকার কৃষক ফারহানা আক্তার মুমু (৪০) বলেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তিনি গেল বছর ৪০ শতাংশ জমিতে চিয়া বীজ চাষ করে সফল্য পেয়েছিলেন। ওই জমি থেকে তিনি ৭০ কেজি বীজ উৎপন্ন করেছিলেন। যা বিক্রি করেছেন ৬৫হাজার টাকায়। খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। এবছর তামাক চাষ না করে গেল বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন জমিতে চিয়া বীজ চাষ করেছেন। এবছরও আশানুরুপ ফলনের আশা করছেন তিনি। ”চিয়া বীজ চাষ করতে সামান্য পরিমানে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি শতাংশ জমিতে ৩-৪ কেজি বীজ উৎপন্ন করা সম্ভব বলে জানান তিনি ।
একই গ্রামের মনছুর আলী জানান, তামাক চাষ না করে এ বছর তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে চিয়া বীজ চাষ করেছেন। লাভবান হলে আগামীতে তিনি আরও বেশি জমিতে চিয়া বীজ চাষ করবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার বেজগ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর (৬৮) বলেন, তার জীবনে এর আগে কোনদিনই চিয়া বীজের গাছ দেখেননি। এ বীজ দেখভতে কেমন হবে সেটাও তিনি জানেন না। কিন্তু তিনি এবছর ২৭ শতাংশ জমিতে এ ফসলের চাষ করেছেন। শুধু এ ফসলের ওষুধি ও পুষ্টিগুণ শুনে চিয়া বীজ চাষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “জাহিদুল নামে এক ব্যক্তি আমাকে বীজ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং তিনি আমার কাছ থেকে এ বীজ কিনবেন বলে নিশ্চিত করেছেন,’।
হাতীবান্ধা উপজেলার বুড়াসারডুবি গ্রামের কৃষক ও উদ্দ্যোগতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি চাষিদের মাঝে চিয়া বীজ সরবরাহ করেছেন। তাদের উৎপাদিত চিয়া বীজ তিনি কিনবেন। এবছর বীজ সরবরাহ কম থাকায় অনেক আগ্রহী চাষিকে চিয়া বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হয়িনি। “আমি কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিকেজি চিয়া বীজ ৬০০-৭০০ টাকা দরে ক্রয় করে তা ক্রেতাদেরকে ৯০০-১০০০ টাকা দরে প্রতিকেজি চিয়া বীজ সরবরাহ করছি। “চিয়া বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, শুধু বীজের জন্য তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে চিয়া বীজ চাষ করেছেন। এ জমি থেকে যে পরিমানে বীজ পাওয়া যাবে তা দিয়ে প্রায় ১০০ একর জমিতে চিয়া বীজ চাষ করা যাবে। আগামি বছর আগ্রহী কৃষকদের মাঝে এ বীজ সরবরাহ করা হবে। “চিয়া বীজ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ফসল। এ ফসলের বাজারজাত করতে কোন সমস্যায় পড়তে হয় না কৃষকদের,’ ।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, ওষুধি ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন চিয়া বীজ চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের সাড়াও মিলছে। চলতি মৌসুমে যে সব কৃষক চিয়া বীজ চাষ করেছেন কৃষি বিভাগের পক্ষথেকে তাদের নিয়োমিত খোজ খবর নেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনিয় পরামশ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চিয়া বীজের ফলন আশানুরপ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।