সঠিক পথে মুমিন হওয়ার উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী- বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ
প্রকাশিত: শুক্রবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৪৪ অপরাহ্ন
সঠিক পথে মুমিন হওয়ার উপায়

ইসলামে একজন প্রকৃত মুমিনের জীবনযাত্রা নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। একজন মুমিন হতে হলে তাকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ইসলামের বিধান মেনে চলতে হবে। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালিত হলে একজন মুমিন তার জীবনে প্রকৃত শান্তি ও সফলতা অর্জন করতে পারে।

প্রথমত, একজন মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস ও তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া মানে হচ্ছে আল্লাহকে সবসময় স্মরণ করা এবং তাঁর আদেশ নিষেধ মেনে চলা। এ বিশ্বাস মুমিনের হৃদয়ে থাকলে সে কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় না এবং সৎ পথে চলার চেষ্টা করে।

দ্বিতীয়ত, কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা মেনে চলা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। কোরআন আল্লাহর বিধান এবং হাদিস নবী (সা.)-এর জীবনযাত্রার আদর্শ। এগুলো অনুসরণ করলেই একজন মুমিন সঠিক পথ খুঁজে পেতে পারে। কোরআনের নিয়ম অনুযায়ী জীবন গঠন করলে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে।

তৃতীয়ত, নামাজ ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, দোয়া, যিকির, এবং কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিনের আত্মা পবিত্র থাকে। নামাজ একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অন্যতম মাধ্যম।

চতুর্থত, একজন প্রকৃত মুমিন সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করে। সে কখনো মিথ্যা কথা বলে না, প্রতারণা করে না এবং অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখে। রাসূল (সা.) বলেছেন, "সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র উত্তম।" তাই একজন প্রকৃত মুমিনের উচিত ন্যায়পরায়ণ হওয়া।

পঞ্চমত, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একজন মুমিনের অন্যতম গুণ। জীবন চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তি আসতে পারে, কিন্তু একজন মুমিন সবসময় ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর উপর আস্থা রাখে। বিপদের সময় আল্লাহর সাহায্য কামনা করে এবং সুখের সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

ষষ্ঠত, মানবিকতা ও দানশীলতা একজন মুমিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ। অসহায়দের সাহায্য করা, দান করা, এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করা একজন মুমিনের কর্তব্য। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা সদকা দাও, কারণ সদকা বিপদ থেকে রক্ষা করে।" সুতরাং একজন মুমিনের উচিত সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা।

সপ্তমত, ক্ষমাশীলতা একজন প্রকৃত মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং তিনি তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই একজন মুমিনের উচিত রাগ সংবরণ করা, অন্যদের ভুল ক্ষমা করা এবং সবসময় উত্তম আচরণ করা। ক্ষমাশীলতা মানুষের অন্তরকে শান্তি দেয় এবং সামাজিক সম্পর্ককে মজবুত করে।

অষ্টমত, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুমিনের উচিত তার সময়ের সঠিক ব্যবহার করা, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং সর্বদা আল্লাহর প্রতি অনুগত থাকা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান অনুসরণ করে একজন ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন হতে পারে।

উপসংহারে, একজন প্রকৃত মুমিন হতে হলে তাকওয়া, নামাজ, কোরআন-হাদিসের অনুসরণ, ধৈর্য, দানশীলতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি। এ সকল গুণাবলী অর্জন করলে একজন ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে একজন মুমিন হতে পারে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হবে। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করেন, আমিন।