
ইসলাম এমন একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতি যা সব দিক থেকে সার্বিকভাবে মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছে। আর সেজন্যই ইসলাম চরিত্র তথা উত্তম চরিত্রকে ইমানের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বলে উল্লেখ করেছে। প্রিয় রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ইমানদার হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি। সুতরাং উত্তম চরিত্র হচ্ছে ইমানের প্রমাণ ও প্রতিফলন। উত্তম চরিত্র ছাড়া ইমান প্রতিফলিত হয় না। তাই তো নবী করিম (সা.) সংবাদ দিয়েছেন, তাঁকে প্রেরণের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হচ্ছে মানব চরিত্রের উত্তম দিকগুলো পরিপূর্ণ করে দেওয়া। রসুল (সা.) বলছেন, ‘আমি চরিত্রের উত্তম দিক পরিপূর্ণ করে দিতে প্রেরিত হয়েছি।’ মুসনাদে আহমাদ, আদাবুল মুফরাদ।
মুসলমানদের যেসব ইসলামী চরিত্র অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার একটি হচ্ছে আমানতসমূহ তার অধিকারীদের কাছে আদায় করে দেওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে আদায় করে দিতে।’ সূরা আন নিসা : ৫৮। ইসলামী চরিত্রের আরেকটি দিক হচ্ছে একজন মুসলমান তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করবে। সে ধনী হোক বা গরিব। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার বাহু মুমিনদের জন্য অবনত করে দাও।’ সূরা আল-হিজর : ৮৮। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ আমার কাছে ওহি করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও যাতে একজন অন্যজনের ওপর অহংকার না করে। একজন অন্যজনের ওপর সীমালঙ্ঘন না করে।’ মুসলিম।

