https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif

স্বপ্নে কুরআন তেলাওয়াত করতে দেখলে কী হয়?

Ziaul Hoque
জিয়াউল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:১৯

শেয়ার করুনঃ
স্বপ্নে কুরআন তেলাওয়াত করতে দেখলে কী হয়?
মানুষের চিন্তার অনেক বিষয় স্বপ্নে প্রতিফলিত হয়। আবার এতে অনেক নেক কাজের ইঙ্গিতও বহন করে মানুষের স্বপ্ন। স্বপ্ন সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে অনেকের।

মানুষের জন্য ইঙ্গিত বহন করে এমন স্বপ্ন দেখার রয়েছে কিছু সময় ও অবস্থা। কোনো ব্যক্তি যদি ওজুর সঙ্গে ঘুমানোর পর শেষ রাতে ডান কাতে কোনো স্বপ্ন দেখে, সে স্বপ্নে মানুষের জন্য থাকে বিশেষ কিছু ইঙ্গিত। যা পরবর্তীতে প্রতিফলিত হয়।

তবে যে কেউ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারে না। তবে আল্লাহভিরু ও জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারেন। যদি কেউ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা বা শোনা সম্পর্কিত কোনো স্বপ্ন দেখেন তবে এর মর্মার্থ কী দাঁড়ায়? এর ব্যাখ্যা বা তাবিরই বা কী?

এ সম্পর্কে জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে কিছু ব্যাখ্যা এসেছে। আর তাহলো-

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
>> কুরআন দেখে দেখে তেলাওয়াত

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি দেখে দেখে কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির মর্যাদা বেড়ে যাবে এবং জীবনে খুশি নেমে আসবে।

>> কুরআন মুখস্ত তেলাওয়াত করতে দেখলে

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি মুখস্ত কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি কোনো বিচার ফয়সালার মুখোমুখি হবেন এবং সেখানে তার দাবি সঠিক হবে; সে সত্যবাদি পরিচিতি পাবেন; তিনি নরম হৃদয়ের অধিকারী হবেন, সৎ কাজের আদেন দেবেন এবং অসৎ কাজে বাধা দেবেন।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
>> কুরআন খতম করতে দেখলে

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কুরআন খতম করতে দেখেন তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির বড় কোনো সফলতা আসবে। আল্লাহ তাকে অনেক সাওয়াব দান করবেন।

>> কুরআন মুখস্ত করতে দেখলে

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কুরআন মুখস্ত করেছেন। তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি অনুযায়ী শক্তি বা মর্যাদার অধিকারী হবেন।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
>> কুরআন পড়তে দেখেছেন কিন্তু কোন অংশ পড়ছেন তা মনে নেই

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কুরআন পড়ছেন দেখছেন, কিন্তু কোন অংশ বা আয়াত পড়েছেন তা স্মরণ নেই, তাহলে এর ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি যদি অসুস্থ থাকে, তবে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আর যদি সে ব্যবসায়ী হয় তাহলে তার বড় মুনাফা হবে।

>> কুরআন তেলাওয়াত শুনতে দেখছেন

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কুরআন তেলাওয়াত শুনছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- তার শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তার সব কাজের ফলাফলও সুন্দর হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাবেন।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
>> অন্য ব্যক্তি তার কুরআন তেলাওয়াত শুনছেন

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তার কুরআন তেলাওয়াত অন্য ব্যক্তিরা শুনছেন তবে এর ব্যাখ্যা হলো- লোক সমাজে তাঁর কথা মান্য হবে।

>> কুরআন বিকৃত করে পড়তে দেখলে

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে যে কুরআন বিকৃত করে পড়ছে কিংবা কুরআন নিয়ে বিতর্ক করছে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির জন্য এ স্বপ্ন দুর্দশা লক্ষণ হবে। তার জন্য কোনো দুর্দশা বা ক্ষতি অপেক্ষা করছে।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
পরিশেষে…

স্বপ্ন যেমনই হোক, তা দেখার পর মানুষের রয়েছে কিছু করণীয়। ভালো স্বপ্ন দেখলে যেমন আল্লাহর প্রশংসা করতে হবে তেমনি খারাপ স্বপ্ন দেখলেও আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। আর তাহলো-

ভাল স্বপ্ন দেখলে-

>> ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়া।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
>> স্বপ্নেপ্রাপ্ত সুসংবাদ গ্রহণ করা।

>> প্রিয় ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা।

>> যে ব্যক্তি স্বপ্ন সম্পর্কিত ভালো জ্ঞান রাখে তার কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ করা।

>> স্বপ্নে শুকরিয়াস্বরূপ বেশি বেশি দান করা।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
মন্দ স্বপ্ন দেখলে-

>> ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম’ ৩বার পড়া।

>> বাম দিকে তিন বার থু থু ফেলা।

>> পার্শ্ব পরিবর্তন করে ঘুমানো।

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
>> কারও কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ না করা।

>> স্বপ্নে দুর্দশা থেকে মুক্ত থাকতে গরিবদের দান করা। আর এ দোয়াটি পড়া-

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই-ইয়াহ্‌দুরুন।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্বপ্নে ইঙ্গিতে প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইনিউজ ৭১/এম.আর

https://enews71.com/storage/ads/01JPGKM6HF6Z9KMXY1REE9WXY0.jpg

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা

https://enews71.com/storage/ads/01JP5YKC7WPY9CJWY37XZPWKM0.jpg

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রমজানের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারকে বলা হয় জুমাতুল বিদা। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি রোজাদারদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মহিমান্বিত এ মাস বিদায়ের পথে। তাই দিনটির যথাযথ মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুমাতুল বিদা উপলক্ষে মুসল্লিরা মসজিদে বিশেষ ইবাদত ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।   জুমার দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, এটি সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে

শবে কদরের রাতে রাজধানীর মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

শবে কদরের রাতে রাজধানীর মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

রাজধানীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে কদর। আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের আশায় মুসল্লিরা দলে দলে মসজিদে জড়ো হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ইস্কাটন, বেইলি রোড ও পুরান ঢাকার বেশ কিছু মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে।   বায়তুল মোকাররম মসজিদে দেখা যায়, মুসল্লিরা উত্তর-দক্ষিণ গেট দিয়ে প্রবেশ করছেন।

আল আকসায় লাখো মুসল্লির ইবাদত, ইসরায়েলি কড়াকড়ি

আল আকসায় লাখো মুসল্লির ইবাদত, ইসরায়েলি কড়াকড়ি

রমজানের শেষ দশকে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরের সন্ধানে লাখো মুসল্লি জমায়েত হয়েছেন পবিত্র আল আকসা মসজিদে। সারা রাত ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থেকে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তির জন্য দোয়া করেন।   আল আকসা মসজিদ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ট্রাস্টের তথ্যমতে, বুধবার রাতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সেখানে নামাজ আদায় করেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত

পবিত্র ঈদে বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত

পবিত্র ঈদে বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত

আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন, ৭ জুলাই, সকাল ৭টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় শুরু হবে এবং শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিববুল্লাহিল বাকী প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন

পবিত্র শবে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র শবে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত

এ রাত মহামহিমান্বিত, অভাবনীয়। নিশ্চিত পুণ্যের অভাবনীয় খাজাঞ্চি সাজানো রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হাজার মাসের অপেক্ষা এই রাত শ্রেষ্ঠ। মহিমান্বিত এই রাতটি ২৭ রমজানের রাত হিসেবে চিহ্নিত। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে অধিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে ২৭ রমজানের রাতে সারা দুনিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করে থাকেন। মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব অনেকাংশে মহিমান্বিত এ রাতের