
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২

ইসলাম মানুষকে সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়। সুখ-দুঃখ, প্রাচুর্য-অভাব কিংবা বিপদ-আপদ—প্রতিটি অবস্থায় একজন মুমিনের করণীয় হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সুরা আল-বাকারা: ১৫৩)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ধৈর্য শুধু একটি উত্তম গুণ নয়, বরং এটি আল্লাহর বিশেষ সাহায্য ও রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনের অবস্থা বড়ই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখ লাভ করে, তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে; আর যদি দুঃখ-কষ্টে পড়ে, তবে ধৈর্য ধারণ করে। উভয় অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর।” (সহিহ মুসলিম)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষ যখন বিপদে ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে, তখন তার অন্তরে প্রশান্তি নেমে আসে। দুনিয়ার সাময়িক কষ্ট একসময় শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ধৈর্যের প্রতিদান আল্লাহর কাছে অশেষ।

আলেমরা বলেন, ধৈর্য মানে শুধু কষ্ট সহ্য করা নয়; বরং পাপ থেকে বিরত থাকা, ইবাদতে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকাও ধৈর্যের অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে তাওয়াক্কুল মানে কর্ম ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং যথাসাধ্য চেষ্টা করে ফলাফলের দায়িত্ব আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।
প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে একজন মুসলমানের উচিত নিয়মিত নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং সৎকাজের মাধ্যমে নিজের ঈমানকে দৃঢ় করা। এসব আমল মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে।
ইসলামের আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা এবং আল্লাহর ওপর ভরসার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের এই মহান শিক্ষাগুলো বাস্তব জীবনে অনুসরণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।