দোয়া হলো একান্তভাবে আল্লাহর কাছে চাওয়া, যা মুসলমানের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে, সংকটে কিংবা শান্তির সময়ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াটাই ইসলামের শিক্ষা। তবে অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ দোয়া করে কিন্তু মনে করে তা কবুল হচ্ছে না। অথচ কুরআন ও হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহ বান্দার ডাকা শুনেন এবং যথাসময়ে দোয়া কবুল করেন, যদিও তা বান্দার জন্য কোনভাবে, কখন বা কীভাবে হবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।
হাদিসে এসেছে, “তোমরা আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া করো যে তোমরা জানো, তিনি অবশ্যই তা কবুল করবেন।” তবে দোয়া কবুলের কিছু শর্ত রয়েছে—যেমন হারাম খাদ্য বা অবৈধ উপার্জন দোয়া কবুলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এজন্য হালাল জীবনযাপনই দোয়া কবুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পাশাপাশি, আন্তরিকতা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা আবশ্যক।
কিছু বিশেষ সময়ও রয়েছে যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেমন—তাহাজ্জুদের সময়, আজান ও ইকামতের মাঝখানে, জুমার দিনে খুতবার সময়, রোজাদারের ইফতারের সময়, মুসলিম ভাই বোনের জন্য পেছনে গোপনে দোয়া করা ইত্যাদি। এই সময়গুলোতে দোয়া করলে আল্লাহ বিশেষভাবে তা গ্রহণ করেন।
তাছাড়া, কোনো দোয়া যদি সঙ্গে সঙ্গে পূরণ না হয়, তাহলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তিনভাবে দোয়া কবুল করেন—তাৎক্ষণিকভাবে, বিলম্ব করে বা কোনো অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে তার প্রতিদান দেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক দোয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো না কোনোভাবে উত্তর পায়।
আমরা যেন ধৈর্যসহকারে, বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে চাই, অন্তর দিয়ে চাই, নিয়মিত চাই এবং কখনো হাল না ছেড়ে দোয়ায় লেগে থাকি। কারণ, আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”