স্বৈরাচারের দোসররা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
মোঃ সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শুক্রবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:১২ অপরাহ্ন
স্বৈরাচারের দোসররা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র এখনো শঙ্কামুক্ত নয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও স্বৈরাচারের প্রভাবমুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, "স্বৈরাচার পালালেও গণতন্ত্র এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ক্রমাগত অব্যাহত রয়েছে।" তার বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে দেন যে, স্বৈরাচারের দোসররা নানা কৌশলে পুনরায় রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়।


আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। তারেক রহমান আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, দলমত, ধর্ম-দর্শন যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।" তিনি সবাইকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান এবং বলেন, "এটি একটি বড় সুযোগ, যাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসাথে একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে সহায়তা করতে পারে।"


তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশে এক নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনামল বিরাজ করেছিল, যা জনগণের ওপর অত্যাচারের মতো চেপে বসেছিল। "গণ-অভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট সেই স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, কিন্তু তার অনুগামীরা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে," বলেন তিনি।


এছাড়া, তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জনগণের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। তারেক রহমান বলেন, "সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরু, সবাই যদি আইনের শাসনের অধীনে নিরাপদ থাকে, তবেই রাষ্ট্রের শান্তি বজায় থাকবে।"


পলাতক স্বৈরাচারের শাসনামলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা তাদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বেশিরভাগ হামলা ধর্মীয় কারণে হয়নি, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও অবৈধ লাভের আশায় এসব ঘটেছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান যাতে কেউ ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।


সবশেষে, তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র গর্বিত পরিচয় বাংলাদেশি, এবং সবার জন্য সমধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।"


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপির নীতি ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে দলের সমর্থকদের উৎসাহিত করেন এবং ভবিষ্যতে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।