গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদে যাওয়ার ঘোষণা হাসনাত আব্দুল্লাহর

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউল হক জুয়েল (স্টাফ রিপোর্টার)
প্রকাশিত: শুক্রবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদে যাওয়ার ঘোষণা হাসনাত আব্দুল্লাহর

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে 'জাতীয় নাগরিক পার্টি'র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদ ভবনে যাওয়ার জন্য আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে দাঁড়িয়েছি।” তার এই বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যত গঠনের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।


হাসনাত বলেন, “আমরা দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী জাহিলিয়া শাসনের পর আজ মুক্ত। যেই সংসদ ভবনকে আমরা মুক্ত করেছি, সেই সংসদ ভবনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি।” তিনি এই মুক্তির পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেন। হাসনাত আরও বলেন, “৫ আগস্ট দুঃশাসনের কবর রচিত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, "এই সংসদে কে যাবে, তা বাংলাদেশ থেকে নির্ধারণ হবে, ভারত থেকে নয়।"


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “এ সংসদে কে বসবে, সেটি নির্ধারণ করবে এই দেশের খেটে খাওয়া জনগণ।" এছাড়া তিনি জাতির ভবিষ্যত গঠনের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের শক্তি ও সাহসের মিশ্রণে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপনের কথা বলেন।


তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, “আমরা একটি জাতি গঠন করতে পারি নাই, বিভাজন সৃষ্টি করে রাখা হয়েছিল। আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারি নাই।” তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পরও তরুণ প্রজন্মের জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না।” তিনি ভবিষ্যতে বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে একতার রাজনীতি শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।


বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, “বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে আমাদের আদর্শ ও উন্নয়নের পথে কোনো প্রেসক্রিপশন থাকবে না।” তিনি দাবি করেন, “এ দেশে পরিবারতন্ত্র কবরস্থ করা হয়েছে, কামার-কুমারের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবে, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব উঠে আসবে।”


পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল আমাদের দেশে। বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরে আমাদের মুসলিম ভাইদের ওপর চালানো জেনোসাইডের কথা মানুষ ভুলবে না।”


হাসনাত আব্দুল্লাহ’র বক্তব্যে দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের এবং একটি সুশাসিত দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তিনি আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সমর্থন কামনা করেন।