বিএনপি একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ বার্তা দেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের মানুষ নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হয়েছে, অনেকে জীবন দিয়েছে। এসব আত্মত্যাগের মূল্যায়ন কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং এটি হবে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন।
বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, গত এক যুগ ধরে দেশের মানুষ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের মর্যাদা ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক হিমাগার নির্মাণ করা হবে।
তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল, রেশম কারখানা ও চা শিল্প পুনরায় চালু করা হবে, যাতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয় এবং কর্মসংস্থান বাড়ে। তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে আইটি পার্ক বা আইটি হাব স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে পৌঁছে দিতে ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগ, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্থানীয় বিমানবন্দর চালুর আশ্বাস দেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবে।