
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২১, ০:৩৭

আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর তিলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে কর্মী-সমর্থদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মী সমর্থকদের চাওয়া বর্তমান ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে ইউনিয়নটির আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হোক।
অপরদিকে ইউনিয়নটির মূল দলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দ চান গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আবুল হোসেনকে পুনরায় দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হোক। চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মতামত না নেয়ায় মূলত অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শনিবার তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ে তিলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করতে ভোটাভুটিতে যেতে হয় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে। দুপুরে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির ১০০ জন ভোট প্রদান করেন। এতে দেখা যায় তিনবারের পরাজিত প্রার্থী আবুল হোসেন পেয়েছেন ৬৩ ভোট আর ইউপি সদস্য কামরুল পেয়েছেন ৩৭ ভোট।
তিলাই ইউনিয়ন কৃষক লীগ সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন, কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের নেতৃত্বে ছিল, নতুন করে মূল দল আওয়ামী লীগে এসে ৩৭টি ভোট পাওয়া তার জন্য বিশাল ব্যাপার। অপর দিকে আবুল হোসেন দীর্ঘ দিন যাবত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওয়ার্ড কমিটির ভোটাররা তাকেই ভোট দেবেন এটাই স্বাভাবিক ।
তিলাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি, আজাহার আলী বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চুড়ান্ত করতে মূল দল ব্যতীত অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মতামত প্রদানের সুযোগ পাননি। যার ফলে প্রার্থীদের মধ্যে কে বেশি জনপ্রিয় তা স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থক জানান, আবুল হোসেন ৩ বার ভোট করে হেরে গেছেন। তিলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। আমরা তরুণ প্রজন্ম মনে করি আগামী ইউপি নির্বাচনে বর্তমান ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হলে নৌকার বিজয় অর্জন সম্ভব হবে।
কামরুজ্জামান কামরুল জানান, আবুল হোসেন দীর্ঘদিন তিলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো তিনি নিজে তৈরি করেছেন। সেই কমিটির সদস্যরা তাকে ভোট দেবেন এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মতামত নেয়া হয়নি। আমি আমার কাজের দক্ষতা ও আমার প্রতি ভালোবাসা থাকায় ভোটগুলো পেয়েছি। আমার পাশে ইউনিয়নবাসী আছে। তারা চাইলে তাদের সাথে নিয়ে আগামী ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করব।
আবুল হোসেন জানান, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। তারা গোপন ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রদান করেছেন। তিনি আরও বলেন দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করা নিয়ে যারা মনকষ্ট পেয়েছেন রবিবার সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা চেয়েছি। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলো ভাইভাই। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের নেতা কর্মীদের রায়ে নিরপেক্ষ ভাবে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।তিলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে রায় প্রদান করেছেন। সহযোগী সংগঠনগুলোর মতামত নেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সহযোগী সংগঠনের মতামত নেয়ার বিধান নেই।