
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৪২

৩১ জুলাই রাতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে যখন চারটি গুলি করা হয় তখন তিনি রাস্তায় শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন। এর কিছু সময় পরেই ঘটনাস্থলে আসেন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার। সিনহার কাছে গিয়ে প্রথমে বুকের বাম পাশে পা দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ সিনহা ওসি প্রদীপের কাছে পানি চান এবং বিড়বিড় করে কিছু একটা বলেন। কিন্তু ওসি প্রদীপ পানি না দিয়ে পা দিয়ে সিনহার গলাচেপে ধরেন। এর কিছু সময় পরেই সিনহার চড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্রটি জানায়, গত ৩ জুলাই ‘জাস্ট গো’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ট্রাভেল শো ডকুমেন্টারির শুটিংয়ের জন্য তিনজন সহযোগীসহ কক্সবাজারের নীলিমা রিসোর্টে ওঠেন মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এই খবর পৌঁছায় টেকনাফের তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমারের কাছে। তখন থেকেই ওসি প্রদীপ অধিনস্ত পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘ভিডিও পার্টিকে এখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে, যেকোন মূল্যে।' এরপর থেকেই সিনহাকে নজরদারিতে রাখেন পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত।
৩১ জুলাই সকালে একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বৃক্ষরোপণ’ অনুষ্ঠান শেষে ওসি প্রদীপকে জানানো হয়, মেজর সিনহা রাশেদ প্রাইভেটকার নিয়ে টেকনাফের শামলাপুর পাহাড়ে গেছেন। এ সময় সোর্সের মাধ্যমে বাহারছড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলি সিনহার প্রতি নজর রাখতে থাকেন।শুটিং শেষ করে রাত সাড়ে ৮টায় সিনহা ও তার ভিডিও ধারণের সহযোগী সিফাত পাহাড় থেকে নেমে নিজস্ব প্রাইভেটকারে মেরিন ড্রাইভ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে আসার আগে বিজিবি চেকপোস্টে সিনহার গাড়ি তল্লাশির জন্য থামানো হয়। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সিনহা এ দৃশ্য দেখে চালকের আসন থেকে বের হয়ে আসেন। এরপরই দূর থেকে সিনহাকে দুটি গুলি করা হয়। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আবারও দুটি গুলি করা হয়। মোট চারটি গুলির পর মেজর সিনহা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি জানানো হয় ওসি প্রদীপকে। এ সময় প্রদীপ বলেন, ‘আমি না আসা পর্যন্ত তুমি (লিয়াকত) ওখানে থাকো, আমি আসছি।’ এর কিছু সময় পরেই ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে আসেন। প্রদীপ ঘটনাস্থলে এসে সিনহাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং সিফাতকে নির্যাতন করেন।
