২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার “রূপকল্প-২০২১” ঘোঘণা করেছে। এ রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন “একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)” প্রোগ্রাম দেশব্যাপী নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটুআই হলো- সরকারি সেবা প্রদানের প্রচলিত দৃশ্যপট বদলে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের দোরগোড়ায় সস্তায়, সহজে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেয়াই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্র সমন্বিত ই-সেবা কাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে যে কোনো জায়গা থেকে জনগণ যে কোনো সময় তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সেবা গ্রহণ করতে পারছে। মানুষের কর্মসময় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হ্ওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে দেশব্যাপী। যার কারিগরি সহায়তায় রয়েছে ইউএনডিপি। এ প্রকল্পের অধীনে প্রথম ধাপে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর নিজস্ব উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে ই-সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটুআই প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি নাগরিক কোনো না কোনো ই-সেবা উপভোগ করছেন। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে বরিশালে। কেননা এখানে বিভাগীয় কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ব্যতীত অন্য কোন দফতরের ওয়েব সাইট হালনাগাদ নেই। বরিশালের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে নিয়োগ-বদলি ছাড়া অন্য কোনও তথ্য হালনাগাদ করা হয় না। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কোন কোন দফতরের অফিস প্রধান কোনদিন তার প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে ঢুকেও দেখেননি। কেউবা আবার তার দফতরের ওয়েব সাইট সম্পর্কে অবগতই নন বলে জানিয়েছেন। বরিশালের সরকারি দফতরগুলোর ওয়েব সাইট নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে আজ থাকছে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়।
বিশ্বে আতঙ্কের নাম এখন করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছুঁই ছুঁই। করোনা ভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে চীনের অর্থনীতির প্রভাব বিশ্বের অন্যদেশগুলোতেও পড়ছে। করোনা প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত জনগণকে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেনতা বাড়ানোর ল্েয কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। আর সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে ঢুকে প্রতিদিন খোঁজ নিচ্ছেন করোনা ভাইরাস এর সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে। গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওয়েব সাইটে ঢুকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি। আর বরিশাল সিভিল সার্জন জানালেন করোনা সম্পর্কিত কোন তথ্যই সেখানে দেয়া হয় না। অবশ্য ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে করণীয় কিছু তথ্য রয়েছে জানালে তিনি বলেন, তার দফতরে যে ওয়েব সাইট রয়েছে তা তিনি জানেন না। উল্টো তিনি বলেন, কে বা কাহারা আমার দফতরের ওয়েব সাইট করেছেন?
বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওয়েব সাইটে ঢুকলে প্রথমেই আমাদের সম্পর্কে অপশনে গিয়ে ঢুকলে মিশন ও ভিশন নামে একটি টুলস আছে। কিন্তু সেখানে ঢুকলে কোন মিশন বা ভিশন কিছুই পাওয়া যায়না। যাতে ঢুকলে পাওয়া যায় “ভশন মশন” নামের দুটি শব্দ। শুধু তাই নয়, অর্জন, সাম্প্রতিক কর্মকান্ড, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এসব কিছুই নেই বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে। অথচ আমরা জানি, সারা বছর জুড়েই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে নানাবিধ সচেতনতামূলক কর্মকান্ড চলছে। অর্জনও নেহায়েত কম নয়। কিন্তু তাদের ওয়েব সাইটে ঢুকলে হতাশ হতে হবে। ওয়েব সাইটে একটি টুলস্ আছে, সেবাসমূহঃ যেখানে চারটি অপশন রয়েছে, যার মধ্যে একটি সিটিজেন চার্টার। যার শুরুতেই লেখা রয়েছে জনগণের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ। গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ জানে। যা প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের নানামুখী পদপে অব্যাহত রয়েছে। জনগণও সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন। এই দফতরের ওয়েব সাইটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়টি থাকলেও সাম্প্রতিক মহামারি ধারণ করা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কোন ম্যাসেজ বা সচেতনতামূলক পোষ্ট সেখানে নেই। এ ওয়েব সাইটটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের ৫ তারিখে। অবশ্য শুধুমাত্র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য সেখানে দেয়া রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওয়েব সাইট কে বা কাহারা তৈরী করেছেন তা-ই জানেন না বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মনোয়ার হোসেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অবশ্য বলেন, ওয়েব সাইট সম্পর্কে জানার পর তিনি সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাকে তা আপডেট করার জন্য বলেছেন। অফিস প্রধান হিসেবে আপনার নাম এবং ছবি দেয়া আছে এমন তথ্যের উত্তরে তিনি স্বীকার করেন, তার দফতরের ওয়েব সাইটে কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যতীত অন্য কোন তথ্য হালনাগাদ নেই। তবে তিনি ওয়েব সাইটটি হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেন, প্রতি মাসের আইসিটি সভায় এগুলো বলা হয়। আমরা সব সময় সকল প্রতিষ্ঠানকে ওয়েব সাইট হালনাগাদ করতে বলা হচ্ছে। তাছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান যদি ওয়েবসাইট হালনাগাদ করতে সমস্যায় পড়ে তাহলে আমাদের দফতর থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করা হয়।
বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের আইসিটি বিভাগের প্রোগ্রামার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দফতর থেকে এগুলো মনিটরিং করা হলেও সব তথ্য আমাদের কাছে আসে না। এজন্য তিনি সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমরা সকল দফতরে প্রায় ৪৩ হাজার ওয়েব সাইট তৈরী করা হয়েছে। যা একটি অফিস থেকে মনিটরিং করার সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্ব স্ব দফতর প্রধান অফিস এগুলো মনিটরিং করবে। একজন সাধারণ মানুষের তথ্যের প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবিনেট মিটিংয়ে তিনি বিষয়টি উপস্থাপন করবেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি দফতরকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। জনগণকে সেবা দেয়ার জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা সেখানে যদি কেউ গাফিলতি করে তা দুঃখজনক বলেন তিনি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, প্রতিদিন প্রতি মিনিটে প্রত্যেকটি অফিসের ওয়েব সাইট আপডেট করার কথা। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিবেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের “ভিশন ২০২১” ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের সম্মাজনক ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডাব্লিউএসআইএস) পুরস্কার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোন উদ্যোগ ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটির চূড়ান্ত পর্যায়ের পুরস্কার পেল। তবে এটুআই প্রকল্প বাস্তবায়নে বরিশালের সরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের একরকম অনীহাই প্রকাশ পায়।