
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:১৬

নরসিংদীতে এক যুবককে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার র্যাব-১১ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী রাসেল হাসান (২৮)। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়। অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তার ছেলে তিনি।অভিযোগে রাসেল জানান, ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিবারকে না জানিয়ে মন্টি আক্তার নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে চলে যান রাসেল। বিদেশ গিয়ে বাবা আবদুল হককে বিয়ের কথা জানান তিনি। পরে পুত্রবধূ মন্টিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান রাসেলের মা-বাবা।
বাকি ৯০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা হয়। এই টাকা নিতে ২৯ ডিসেম্বর রাতে রাসেলকে মাইক্রোবাসে তোলেন পাপ্পু ও তার দলের লোকজন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাইক্রোবাসটি নরসিংদী শাপলা চত্বরে আসার পর অপহরণকারীরা প্রস্রাব করতে নামেন। রাসেলও প্রস্রাবের কথা বললে তাকেও নামানো হয়। একটি পিকআপ ভ্যান সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় রাসেল চিৎকার শুরু করেন। তখন অপহরণকারীরা তাকে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যান। এরপর রাসেল সারা রাত নরসিংদী রেলস্টেশনে কাটান। পরদিন সকালে কুমিল্লায় বড় বোনের কাছে চলে যান। সেখানে মুক্তি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান। এরপর বুধবার তিনি র্যাব-১১ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

রাসেল অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ওই মামলার পর নানাভাবে রাসেলকে হয়রানি করতে থাকে মন্টির পরিবার। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে মন্টির ভাই পাপ্পু মিয়াসহ কয়েক ব্যক্তি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। গাড়িতে তোলার সঙ্গে সঙ্গে সিটের নিচে ফেলে তাকে মারধর করা হয়। তৃষ্ণায় তিনি পানি চাইলে তাকে সেভেন আপ দেওয়া হয়। কিন্তু সেভেন আপ পানের পর তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। চেতনা ফেরার পর দেখেন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তিনি একটি কক্ষের মেঝেতে পড়ে আছেন। এর কিছুক্ষণ পরই রাসেলকে পেটানো শুরু করেন পাপ্পু। পরে পাপ্পুর বন্ধু অভিকও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভিডিও ধারণ করে রাসেলের পরিবারের কাছে পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নরসিংদীর বানিয়াছল মালিপাড়া এলাকায় মন্টি আক্তারের বাবা বাদল মিয়ার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার তিন মেয়ে, দুই ছেলে। এর মধ্যে ছোট ছেলে কারাবন্দী।
এদিকে মন্টির করা ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নরসিংদী সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হাসান বলেন, ‘রাসেলেকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দুটি মোবাইল ফোনে ধর্ষণের দৃশ্য উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো সিআইডির কাছে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসআই ইমরান আরও বলেন, ‘মারধর ও মুক্তিপণের ঘটনা রাসেল হাসান পুলিশকে জানায় নি।’অভিযোগের বিষয়ে র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘রাসেল হাসানের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’