
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুই দফায় ওই কারখানা থেকে সাতজন শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরেক শ্রমিক বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনাস্থলেও দুজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানান, দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন। ঘটনাটি গ্যাস নিঃসরণ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮) নামে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। মনসুর ও নাসির সম্পর্কে সহোদর। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, সকাল থেকেই কারখানার ভেতর থেকে তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাসের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে পাশের খাল দিয়ে সাগরে যাওয়ার সময় জেলেদের সমস্যায় পড়তে হয়। পরে তারা কারখানা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়ান।

দুর্ঘটনার পর কারখানা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজনকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া এবং জাহাজের ভেতরে শ্রমিকদের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মানুষ কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করা জরুরি। জাহাজের বিভিন্ন ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিপজ্জনক গ্যাস থাকার আশঙ্কা থাকে। প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েকজন শ্রমিক অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে জাহাজ কাটার আগে গ্যাসমুক্তকরণ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।