জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। তাই সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হবে।
সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধা ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র পরিচালনা করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।