
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১৫:৪৯

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এর ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের পাশাপাশি সাধারণ পর্যটন ভিসা পেতে আগ্রহীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ২৮ জুন থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।
হাইকমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা যাবে। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা মেডিকেল ভিসা কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারিবারিক যোগাযোগ জোরদারে এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনসম্মুখ কার্যক্রম।

গত ১২ জুন পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এর আগে ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে তিনি নিয়োগসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ করেন।
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম নয়াদিল্লিতে হলেও তার বেড়ে ওঠা কলকাতায়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষাজীবনে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ভারতের রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে তাকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক ও জনগণভিত্তিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।