
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৪

দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি। প্রায় এক দশক ধরে অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর এখন প্রকল্পটি বাস্তব উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
গত ১৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কমিশনিংয়ের জন্য চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স পায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়েই প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের পথ উন্মুক্ত হয়, যা প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত না থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে প্রকল্পটি বারবার বিলম্বিত হয়। নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণে একাধিকবার সময় পরিবর্তন করা হলেও এবার সব বাধা অতিক্রম করে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে আনুমানিক ৪৫ দিন সময় লাগবে। এ কাজে অংশ নিচ্ছেন ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ, যারা ইতোমধ্যে অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
প্রথম ইউনিট থেকে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পুরো সক্ষমতায় চালু হলে একক ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দুটি ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করবে।