বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর চারুকলা অনুষদ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘিরে পুরো অনুষদ এখন রঙ, শিল্প ও উৎসবের আবহে মুখর।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) শোভাযাত্রা আয়োজক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইসরাফিল রতন জানান, শোভাযাত্রার অধিকাংশ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে তৈরি মোটিফগুলো গাড়িতে তোলা হবে। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
চারুকলার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, শিল্পীদের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ। মোরগ, হাতি ও দোতারার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ঘোড়া ও পায়রার ওপর শেষ পর্যায়ের রঙের কাজ চলছে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সরা, মাটির টেপা পুতুল এবং জলরঙে আঁকা নানা পেইন্টিং। প্রতিটি শিল্পকর্মে বাঙালির ঐতিহ্য, সংগ্রাম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রকাশ ফুটে উঠছে।
চারুকলা অনুষদের দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছে গ্রামীণ জীবন, লোকজ সংস্কৃতি ও বাংলার ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গভিত্তিক দেয়ালচিত্র। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও অনেকেই এই আয়োজন ঘুরে দেখছেন।
নববর্ষের দিন সকাল ৯টায় চারুকলার ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকেই প্রস্তুতি চলবে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হবে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা শুধুমাত্র নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরে প্রবেশ কিংবা ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে চারুকলায় প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন, আতশবাজি ও ভুভুজেলা বাঁশি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।