
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২২, ৪:১৪

সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডবাহী কন্টেইনার বহনে রাজি নন জাহাজ মালিকেরা। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে চট্টগ্রামের চারটি প্রাইভেট আইসিডি।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডবাহী ১১৩ কন্টেইনারের ঝুঁকিতে ৪টি ডিপো
মেইন লাইন শিপিংগুলো বুধবার (৮ জুন) থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করায় এই চারটি আইসিডিতে ১১৩টি কন্টেইনার ভর্তি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পড়ে আছে। বন্ডেড এরিয়া হওয়ায় বিপুল রাসায়নিক সরানোতেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে মেইনলাইন শিপিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ও এন ই, গোল্ডস্টার শিপিং লাইন এবং ও ও সি এল বুধবার থেকে কোনো হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডবাহী কন্টেইনার জাহাজে না তোলার ঘোষণা দিয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ।
শুধু তাই নয় আরও কয়েকটি জাহাজ মালিক প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।

এদিকে, জাহাজ মালিকদের এই সিদ্ধান্তে চরম বেকায়দা এবং ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে চট্টগ্রামের চারটি প্রাইভেট আইসিডি বা অফডক। এর মধ্যে ও সি এলে সবচেয়ে বেশি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডবাহী কন্টেইনার আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ৪২টি কন্টেইনার কঠিন এবং ৭ কন্টেইনার তরল হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রয়েছে। এছাড়া পোর্ট লিংকে ৩৩টি কন্টেইনার, ইস্টার্ন লজিস্টিকে ২৪টি কন্টেইনার এবং কে অ্যান্ড টি লজিস্টিকে ৭টি কন্টেইনার ভর্তি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রয়েছে। বন্ডেড এরিয়ার এসব কন্টেইনারের অবস্থান হওয়ায় এগুলো সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম বেকায়দায় অফডক মালিকেরা।
বিকডা মহাসচিব রুহুম আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, এরই মধ্যে দু-একটা শিপিং এজেন্ট শিপমেন্ট ক্যান্সেল করে দিয়েছে। কাস্টমস পারমিশন নেয়ার পরেও এই কন্টেইনারগুলো থেকে মালগুলো বের করে আবার রফতানিকারককে ফেরত দেয়ার যে প্রক্রিয়া এই প্রক্রিয়াটা কিন্তু বিলম্বিত হচ্ছে। যেটা আমরা মনে করি না একেবারেই অভিপ্রেত। আমরা চাই যদি ক্যান্সেল হয়ে যায় তাহলে সেগুলো যাতে দ্রুত রফতানিকারকরা তাদের ফ্যাক্টরিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে অফডকগুলোতে বিপজ্জনক হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড আটকা পড়ায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিস্ফোরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গার্মেন্টস সেক্টর। এই আগুনে অন্তত ৯০০ কোটি টাকার রফতানিযোগ্য তৈরি পোশাক পুড়ে গেছে।
বিজিএমইএ সহসভাপতি রাকিবুল আলম বলেন, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ যে দুর্ঘটনাটা ঘটেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আরএমজি সেক্টর।
বন্দরের উপর চাপ কমাতে ২০০০ সাল থেকে সরকারের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এসব অফডক বা প্রাইভেট আইসিডির। প্রথম পর্যায়ে শুধু তৈরি পোশাকের আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কাজই হতো এখানে।