
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২১, ১৭:১৪

দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বর্তমান সরকার। অবহেলিত দক্ষিণ জনপদের উন্নয়নে বহু বাঁধা সত্বেও উত্তাল পদ্মায় নির্মিত হলো পদ্মা সেতু। যা এখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার মাত্র কয়েকটি মাস অপেক্ষা। এছাড়া চলতি মাসেই পায়রা বন্দরের সাথে যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে লেবুখালী সেতু। এরই মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর শৈল্পিক কারুকার্যে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘সিডনি হারবার ব্রিজ’ এর আদলে দেশের প্রথম মডেল ব্রিজ। যাতে নদীর মধ্যে থাকবে না কোন পিলার। আর এটা নির্মিত হলে ‘সিডনি হারবার ব্রিজ” এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সুদূর অষ্ট্রেলিয়া যেতে হবে না ভ্রমন পিপাসুদের।
জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রকল্পে চীনের নেতৃত্বাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা ১ হাজার ৯৩০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন মাসে ২৬০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। বাকি ১০৬ মিলিয়ন ডলারের সংস্থান করতে হবে বাংলাদেশকে। ‘কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ দশমিক ২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৪৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং পুনর্বাসনের জন্য ৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তি এবং পুনর্বাসন ব্যয়ের পরিকল্পনা ডিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৬৪ লাখ ঘন মিটার মাটির কাজের জন্য ৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্রিজটিতে বৈদ্যুতিক সুবিধাদিসহ সড়ক বাতির জন্য ১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড রেস্ট এরিয়ার জন্য ১০ কোটি এবং রোড মার্কিং, সাইন, সিগন্যাল, ব্যারিয়ার, গার্ড রেইল ইত্যাদির জন্য ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় জেনারেল অ্যান্ড সাইট ফ্যাসিলিটিজ খাতে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে আবাসিক ভবনসহ যানবাহন ভাড়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর প্রকল্পের আওতায় জেনারেল অ্যান্ড সাইট ফ্যাসিলিটিজ খাতের ব্যয় ১০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং এর বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন ডিপিপিতে দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১৩ জন জনবল নিয়োগের জন্য বেতন ও ভাতাদি খাতে ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২শ জন মাস জনবল আউট সোর্সিংয়ের জন্য ২ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত জনবলের বিষয়ে অর্থ বিভাগের পদ, জনবলের সংখ্যা, ধরণ নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়নি। অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১১শ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ, ওভারপাস ও এসএমভিটি লেনসহ ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার পৃথক সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি জেলাসহ এ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ সহজতর হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা সেতুর নির্মাণ কাজ। যদিও, প্রকল্প প্রস্তাবনায় বাড়তি ব্যয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণের সঙ্গে প্রকল্পের অর্থে নির্মাণ করা হবে ওভারপাসসহ ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক, ৩২০ মিটার স্টীল আর্চ ব্রিজ সুপারস্ট্রাকচার, ১ হাজার ৭’শ ৭৩ মিটার কংক্রিট ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক বাঁধে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ঘনমিটার মাটির কাজ, ১টি টোল প্লাজা, ৩৩ দশমিক ২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন, ইউটিলিটি স্থানান্তর, ড্রেনেজ, রোড মার্কিং, সাইন-সিগনাল, বেরিয়ার, গার্ড রেল ও রেস্ট এরিয়া।
পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, আলাদা এসএমভিটি লেনসহ ৪ লেনের সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের জেলাসহ এ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সাথে ঢাকার নিরাপদ, উন্নত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, শিল্প উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঐ অঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।