বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য শুক্রবার পবিত্র দিন। এ দিনে বিশ্বে প্রতিটি মসজিদ থেকে বাতাসের সূরে ভেসে আসা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুসল্লিরা ছুটে যান মসজিদের দিকে। কিন্তু এখন এই দিনে আজানের কোনো ধ্বনি শোনা যাচ্ছে না দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে কেন্দ্রীয় মসজিদসহ কোনো মসজিদেই। জুমার নামাজ আদায় হয়নি। হচ্ছে না নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও। দক্ষিণ কোরিয়ার ভয়াবহ করোনাভাইরাসই তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।কোরিয়াতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে ৫৯৪ জন সংক্রমিত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫০ জনে। মারা গেছে ১৭ জন।
দক্ষিণ কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন সব মসজিদে এক জরুরি নোটিশ জারি করেছে। যেখানে লোকদের সমাগম না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। মসজিদে ধর্মীয় সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার দক্ষিণ আনসান মসজিদের খতিব মাওলানা মুমতাজুল হক বলেন, ‘আজ আমাদের এখানে জুমার নামাজ হয়নি। মসজিদের মেইন গেট বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কোরিয়ার প্রশাসনসহ মুসলিম ফেডারেশন। সরকার থেকেও বারবার নির্দেশ আসছে জনসমাগম নিয়ে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা যেকোনো অনুষ্ঠান না করার জন্য। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেও মুসল্লিরা আসতে পারছেন না। আমাদের আনসান মসজিদে প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে আসেন।’
এদিকে জুমার নামাজ বন্ধের বিষয়ে আনিয়াং মসজিদের খতিব হাফেজ আব্দুর রহমান বলেন, গত বুধবার বিকালে কোরিয়ার মুসলিম ফেডারেশনের একটি নোটিস হাতে পেয়েছি। সেখানে জুমার নামাজসহ মসজিদের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।কোরিয়ার মুসলিম ফেডারেশন জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান না করলে দেশ ও জাতি সবাই উপকৃত হবে। এই অবস্থার পরির্বতন ঘটলে আবার জুমার নামাজসহ সব মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম চালু করার জন্য নোটিস দেয়া হবে। কোনো মুসল্লি মসজিদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও ছিল না। তাই আজ জুমার নামাজ হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ বৌদ্ধ ও ২০ শতাংশ খ্রিস্টান। প্রায় ২৫.৩ শতাংশ কোরীয় নাগরিক নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম পালন করেন না। দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। সেই সঙ্গে দেড় লাখ বিদেশি মুসলিম কর্মজীবী।কোরিয়াতে গত ৫০ বছরে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ৫৪ গুণ বেড়েছে। ১৯৬৫ সালে যখন কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন স্থাপিত হয়, তখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজার ৭০০। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে দুই লাখের কাছাকাছি।রাজধানী সিউলে বসবাস করা মুসলমানদের দেড় লাখেরই বসবাস ইতেওয়ানে, যাদের এক-তৃতীয়াংশই নৃত্বাত্ত্বিক দিক থেকে কোরীয়। রাজধানী সিউলের এটি একটি ব্যস্ততম জেলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম কেন্দ্রীয় মসজিদের অবস্থান এই জেলায়। এই মসজিদটি প্রথম নামাজের জন্য খুলে দেয়া হয় ১৯৭৬ সালে। বর্তমানে কোরিয়াতে বিভিন্ন শহরে বড় মসজিদের সংখ্যা ২৭ টি এবং ছোট ছোট নামাজের ঘর রয়েছে প্রায় ১৮০টি।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ও অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বে এ পর্যন্ত ৮৫ হাজার ৫৫১ জন শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে দুই হাজার ৯২৮ জন। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে সংক্রমিত হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জন এবং মারা গেছে অন্তত ৫০ জন। ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে ৪৫টিরও বেশি দেশে।