
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৩৪
বাংলাদেশকে ভারতের এক নম্বর বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে দেশটিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তাতে প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। রোববার ভারতের সরকারি বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা সে দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি। সমালোচকরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ভারতে বিভাজন তৈরি করতে এ নতুন নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
বিতর্কিত এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে কিছু না বলায় ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের দাবানল বেশি ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের সুযোগ থেকে মুসলিমদের বাদ দেয়ায় এ আইন অসাংবিধানিক এবং বিভাজনমূলক। শনিবার পর্যন্ত ভারতের চলমান এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুধু উত্তরপ্রদেশেই ১৬ জনের প্রাণ গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সম্প্রতি আব্দুল মোমেন বলেন, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের তালিকা দিতে নয়াদিল্লির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। যদি কোনো বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করে থাকে, তাহলে তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গত ১২ ডিসেম্বর ভারত সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং বিজয় দিবসের সঙ্গে ব্যস্ত সফরসূচি মিলে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাসের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি সফর বাতিল করেছেন।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব