প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৫

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণ ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বাধা এবং ধরপাকড়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এক তরুণ। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও নেপালের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতেও পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নয়াদিল্লির কনট প্লেস এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন ২৯ বছর বয়সী সন্তোষ কুমার। রাস্তায় তরুণদের বাধা দেওয়া ও আটক করার ঘটনা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন। বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণের সমালোচনা করে তিনি মোদি সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনাও করেছেন।
সন্তোষ কুমারের মতে, পুলিশের ধরপাকড় দিয়ে তরুণদের আন্দোলন দীর্ঘ সময় আটকে রাখা সম্ভব হবে না। তার দাবি, পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলে অল্প সময়ের মধ্যে আরও অনেকে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তিনি এটিকে সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের গণআন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে ব্যাপক জনসমাগম তৈরি হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর এসব ঘটনা ভারতের আন্দোলনকারীদেরও অনুপ্রাণিত করছে বলে মনে করছেন সন্তোষ।
তিনি ভারতীয়দের নিজেদের অধিকার ও রাজনৈতিক দাবি আদায়ে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, প্রতিবেশী দেশগুলোর আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতেও তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সন্তোষ দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের মেয়াদ ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত নাও টিকতে পারে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন; এ বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ পূর্বাভাস বা জনমত জরিপের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিভিন্ন স্থানে আটকের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধরপাকড়ের মধ্যেও রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে আন্দোলন, প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।