প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:৮

বলিউড ধাঁচের তথ্যচিত্র নির্মাণ করে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা আড়াল কিংবা ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ভারতের নির্মিত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের একটি তথ্যচিত্রের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই তথ্যচিত্রে সাম্প্রতিক সংঘাতের ঘটনাগুলোকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করে ভারতের সামরিক সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নানা দাবি ও নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আইএসপিআর বলেছে, সামরিক ব্যর্থতা স্বীকার না করে সিনেমাটিক কৌশলে ইতিহাসকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, তথ্যচিত্রটিতে অতিরঞ্জিত বর্ণনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে ভারতের পক্ষে একটি একতরফা বিজয়ের ধারণা তৈরি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ওই ভিডিওকে একই সঙ্গে ‘ট্র্যাজেডি’ ও ‘কমেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে তথ্যচিত্রটির উপস্থাপনার বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
আইএসপিআর আরও দাবি করেছে, ‘মারকা-ই-হক’ এবং পাকিস্তানের পাল্টা সামরিক অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’-এর নথি যুদ্ধের বাস্তবতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। তাদের ভাষ্য, এসব নথি, আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন এবং ভারতের বিভিন্ন বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করলেই সংঘাতের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়।

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই সংঘাতে ভারতের কয়েকটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করা এবং ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্বাধীন সূত্রের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আইএসপিআর বলেছে, কোনো ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রচারণা বা নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব ঘটনাকে দীর্ঘদিন আড়াল করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, ইতিহাস নির্ধারিত হয় বাস্তব ঘটনা ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে, প্রচারণার মাধ্যমে নয়।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া এলো।