যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বি-১ বোমারু বিমান হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার আল জাজিরা জানায়, পেন্টাগনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। তবে বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বহর যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় নির্ভুল বৈশ্বিক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে বিমানগুলোর গতিবিধির তথ্য আগে প্রকাশ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি অবস্থিত। গত সাত মাস ধরে ইরানবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমানের ট্রানজিট ঘাঁটি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়ায়। এর মধ্যেই ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক বসানোর চক্রান্তের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।
ইরান ওই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। পরদিন পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের গাড়িতে পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুক্তরাজ্য-ইরান দ্বৈত নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ষড়যন্ত্রে ইরানের ভূমিকা ছিল। কাউন্টার টেররিজম পলিসিংয়ের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়ক ভিকি ইভান্স বলেছেন, সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে জটিল তদন্ত চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেপ্তারের প্রশংসা করে বলেন, অভিযুক্তরা মার্কিন স্থাপনার বড় ক্ষতি করতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় তেহরান ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। গত মার্চে যুক্তরাজ্য মার্কিন বাহিনীকে ফেয়ারফোর্ড ও ডিয়েগো গার্সিয়ার মতো ঘাঁটি প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।