প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৭

পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আবারও বড় ধরনের হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের এবং মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস পৃথক প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে। উভয় সূত্রেই জানানো হয়, দ্বীপজুড়ে একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার পরপরই দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা হয়নি, ফলে প্রকৃত ক্ষতির মাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত হলেও এতে তেল স্থাপনাগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বরং সামরিক স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে গত মার্চ মাসেও খারগ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, দ্বীপের নৌ-মাইন গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কারসহ প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছিল। ফলে এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত না থাকলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন তিনি।
এই আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই খারগ দ্বীপে হামলার ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
খারগ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই একক কেন্দ্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এখানে যেকোনো বড় ধরনের হামলা সরাসরি ইরানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত হানতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।