প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৫৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সতর্ক করেছেন, সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ালে এর প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বিহার ও ওড়িশাতেও পড়তে পারে।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮-এর এক অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি মাৎস্যন্যায়ের মতো হয়ে গেছে—যখন বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খায়। এটি নেতৃত্বহীন অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। তবে আমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে চাই না।”
মমতা আরও বলেন, “বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিহার-ওড়িশাও এই অস্থিতিশীলতার প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না। আমি চাই, আমাদের প্রতিবেশীরা শান্তিতে থাকুক।”
বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম খোলা রাখা উচিত এবং নিশ্চিত করা উচিত যে সবার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় থাকে।”
এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ একটি সাধারণ ভাষা ও সংস্কৃতি ভাগাভাগি করে। ভৌগোলিক সীমারেখা থাকলেও মানুষের হৃদয়ের কোনো সীমা নেই। আমি চাই, বাংলাদেশ তার সংকট কাটিয়ে উঠুক এবং সবাই ভালো থাকুক।”
প্রতিবেশী দেশে উত্তেজনা বাড়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, “দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আমি প্রকাশ্যে কথা বলি না। তবে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
গত সপ্তাহে মমতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা নির্যাতিত ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে মমতার এ বক্তব্য দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বাংলাদেশে চলমান সংকট কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে উভয় দেশেরই দৃষ্টি এখন ভবিষ্যৎ উদ্যোগের দিকে।
ইনিউজ৭১।