
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২২, ২:২৯

যুদ্ধ চলছে দেশে। বারুদের গন্ধে ভারী বাতাস। রুশ আগ্রাসনের শেষ নেই! অবিরাম গোলাবর্ষণের সেই মৃত্যুপুরীতে ফুটল প্রেমের গোলাপ! যুদ্ধক্ষেত্রে বিয়ে করলেন দুই ইউক্রেনীয় সেনা এক সুদর্শন তরুণ ও এক সুন্দরী তরুণী। হয়তো বা যে কোনও মুহূর্তে মুছে যেতে পারে মায়াবী জীবনের জলছবি, তবুও যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়েই আমৃত্য সঙ্গে থাকার শপথ নিলেন ওঁরা!
৩১ বছরের তরুণী এমারেল্ড এভজেনিয়াকে দেশের ‘জোয়ান অফ আর্ক’ বলছে ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম। এমারেল্ড রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ছিলেন সাধারণ নাগরিক। কিন্তু নিজের দেশে রুশ হামলার পর সিদ্ধান্ত নেন দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গ করবেন। যেমন কথা তেমন কাজ। যোগ দেন ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে। তারপর থেকে বন্দুক-গোলাবারুদ হয়ে ওঠে নিত্য জীবন। রাত কাটে সেনা ক্যাম্পে, কখনও বা রুশ মিসাইল থেকে রক্ষা পেতে তৈরি নির্জন অন্ধকার বাঙ্কারে।

এমন অন্ধকারে দেশীয় বাহিনীর সহযোদ্ধা এভজেনি স্টিপানিউক যেন আলোর যুবক। গত ১৪ অক্টোবর সেই আলোর সঙ্গে বিয়ে সারলেন এমারেল্ড। ইউক্রেন সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, খারকভ শহরের মধ্যেই একটি অরণ্যে বিয়ে সারেন এমারেল্ড-এভজেনি। যে বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সেনাকর্মী এভজেনিকে প্রেম নিবেদন করেন তরুণী এমারেল্ড। উভয়ে বাকদান পর্ব সারেন গত আগস্ট মাসে। অবশেষে ১৪ অক্টোবর বিয়ে করেন তাঁরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এমারেল্ডের সাদা লম্বা ঝুল বিয়ের পোশাক ও সেনার উর্দি পরা স্বামীর ছবি। সদ্য বিবাহিতা যুবতীর হাতে ফুলের বদলে ছিল গম গাছের চারা। বিয়ের পর উচ্ছ্বসিত এমারেল্ড বলেন, “শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে আমি একজন সেনার স্ত্রী হলাম। ঘটনাটি ঘটল যুদ্ধক্ষেত্রে। ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হল। এর চেয়ে ভাল ভাবে বিয়ে হতে পারত না।”