
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:৩২

আগামী মাসে ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এ রকম সুস্পষ্ট আশঙ্কা রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রাশিয়াও ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মূল দাবিগুলো মানতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করায় সংকট সমাধানের তেমন কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন সীমান্তে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া। এতে প্রতিবেশী দেশটিতে মস্কোর হামলার শঙ্কাই উসকে দিয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনা কথা উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লোদিমির জেলনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জো বাইডেন। তখন তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া—এমন সুস্পষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র এমিলি হর্নের বরাতে বিসিসি এ খবর দিয়েছে। এমিলি বলেন, বাইডেন প্রকাশ্যেই এই মন্তব্য করেছেন। বেশ কয়েক মাস ধরেই আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলাম।
ভ্লোডিমির জেলনস্কির সঙ্গে আলাপে বাইডেন বলেন, রাশিয়া যদি আবারও ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়, তবে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্তভাবে জবাব দেবে।

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন, পরিস্থিতি প্রশমনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক চেষ্টা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে কিছু যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা সম্মত হয়েছি।
অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে এক্সিওসের খবর বলছে, হামলার হুমকি কতটা আসন্ন, তা নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া সম্ভবত ইউক্রেনের মাটি হিমায়িত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা ভারী যন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন।
রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা চালায়, তবে এবারই তা প্রথম হবে না। এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপত্যকা দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এছাড়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ডোনবাস অঞ্চলের বিদ্রোহীদের রসদ যোগান দিচ্ছে প্রতিবেশী পরাশক্তিটি। সেখানে লড়াইয়ে ১৪ হাজার লোক নিহত হয়েছেন।