প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২১, ৩:৯
পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের শুরু। আজ বুধবার (৬ অক্টোবর) মহালয়া। আর মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়া। মহালয়া মানেই পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে তর্পণ। তর্পণের জন্য বুধবার সকাল থেকেই কোভিড বিধি ভেঙে সাধারণ মানুষ ভিড় জমায় গঙ্গার ঘাটগুলোতে। আর প্রশাসন দেখেও রয়েছে নির্বিকার ভূমিকায়।
শাস্ত্রমতে দেবীপক্ষের আগের কৃষ্ণা প্রতিপদে মর্ত্যধামে নেমে আসেন পিতৃপুরুষরা। অপেক্ষা করেন উত্তরসূরিদের কাছ থেকে জল পাওয়ার জন্য। মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জলদানই তর্পণ। কলকাতার দক্ষিণেশ্বর থেকে বাগবাজার, কুমারটুলি, আহিরিটোলা কিংবা বাবুঘাট- সকাল থেকেই ভিড় জমেছে কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে।
বিভিন্ন জেলার ঘাটগুলোর চিত্রও একই রকম। কোনো কোনো ঘাটে সকাল থেকেই তর্পণের জন্য পড়েছে লম্বা লাইন। আর সেই সঙ্গেই বিভিন্ন ঘাটে ফুটে উঠেছে অসচেতনতার চিত্র। কোনোরকম কোভিড বিধি বা দূরত্ব বিধি না মেনেই স্বাভাবিক ছন্দে চলছে তর্পণ। মাস্কের বালাই নেই। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তর্পণ করছেন অসচেতন মানুষরা। করোনা আবহে পৌরসভার পক্ষ থেকে গত বছরই বলা হয়েছিল অন্তত ছয় ফুট দূরত্ব মেনে যাতে তর্পণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে জনস্রোত নামায় প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কার্যত ভেঙে পড়ে।
করোনার ক্ষেত্রে সচেতন না হলে এদিন তর্পণ করতে এসে যাতে কোনো রকমের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখে কলকাতা পুলিশ। কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নদীপথে টলহদারি চালাচ্ছে রিভার ট্রাফিক পুলিশ। তৈরি রাখা হয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যদেরও।
এর আগে কেরালায় ওনামের পর হুহু করে বেড়ে গিয়েছিল দৈনিক সংক্রমণ। আসন্ন দুর্গাপুজো ঘিরে কলকাতায় যাতে কেরালার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য সতর্ক অবস্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনে পুজো কার্নিভাল বাতিল ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে করোনাকালে পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করল মমতার সরকার।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, মণ্ডপে প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথ খোলামেলা রাখতে হবে। মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। পুজো কমিটিগুলোকেও মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে। মণ্ডপে ঠিক মতো সামাজিক দূরত্ব ও করোনাবিধি মানা হচ্ছে কিনা, তা নজর রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করতে হবে পুজো কমিটিকে। এছাড়া বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুজোর উদ্বোধন এবং বিসর্জনের অনুষ্ঠানে জাঁকজমক করা যাবে না।