
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৪, ২২:৯

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়া সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুসার চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই। তার চিকিৎসায় অর্থসহায়তা করেছে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবং দেশের সাধারণ জনগণ। তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে মুসার চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুসা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিল। গত ১৯ জুলাই রামপুরায় নিজ বাসার নিচে আইসক্রিম কিনতে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। এই ঘটনায় তার দাদি মায়া ইসলামও গুলিবিদ্ধ হন এবং পরদিন মারা যান। মুসার মাথায় গুলি লাগার পর থেকে তার চিকিৎসায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে, তিনি বারবার সংক্রমণের শিকার হচ্ছিলেন এবং শরীর অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা এরপর সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সুপারিশ করেন।

গত ২৬ আগস্ট, মুসাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিএমএইচের নিউরোসার্জন বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে শিশু নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তার পরিবারের সদস্যরা এবং চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, তবে মুসার অবস্থা উন্নতির দিকে না যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো জরুরি হয়ে পড়ে।
মুসার পিতা মুস্তাফিজুর রহমান ও মাতা নিশামনি তাদের একমাত্র সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সন্তান দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। দেশে বসবাসরত বিভিন্ন মানবিক সংস্থার উদ্যোগে মুসার পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এক ধরনের মানবিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যা দেশের মানুষকে একটি মহান উদ্দেশ্যের প্রতি সচেতন করেছে।