
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৫

নীল আকাশে একঝাঁক কালো হ্যাট (টুপি)। ঠিক যেনো পাখির মতো উড়ছে। আর সেই টুপি ধরতে লাফ দিচ্ছেন কেউ কেউ। মনে হচ্ছে একটু পর পর শূন্যে ভাসছেন সবাই। মতিহারের সবুজ চত্ত¡রে এমন আনন্দ আর উচ্ছাসে মেতেছেন গাউন আর টাই পরা গ্রাজুয়েটরা। পুরানো বন্ধুদের সাথে এমন আনন্দঘন পরিবেশে সবাই যেনো ফিরে গেছেন তাদের ক্যাম্পাস জীবনে। তাই স্বপ্নের মতো জীবনের সেরা মুহূর্তটিকে ক্যামেরার চোখে বন্দি করতে মরিয়া সবাই।
বলছিলাম রাবির একাদশ সমাবর্তনের কথা। আজ (শনিবার) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন। এবার রাবির ৩ হাজার ৪৩১ জন গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেছেন। সমাবর্তনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে পৌছে গেছেন সকল নিবন্ধিত গ্রাজুয়েটরা। আর তাদের পদচারণায় তাই প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাবি। শুক্রবার থেকেই ক্যাম্পসের সর্বত্র যেনো গ্রাজুয়েটদের মিলনমেলা বসেছে। পুরনো বন্ধুদের পেয়ে সবাই যেনো আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। ক্যাম্পাস মাতিয়ে তোলার দিনগুলোতে ফিরে যাচ্ছেন সবাই। পুরনো বন্ধুদরে সাথে আবার একসাথে বসে গল্প করার সুযোগ পেয়েছেন সবাই। সাবেকদের এমন গর্বিত পদচারণায় যেনো উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরা ক্যাম্পাস জুড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, স্টেডিয়াম, প্যারিস রোড, শহিদ মিনার, সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্য, সকল বিভাগ, সকল আবাসিক হলের সামনে গ্রাজুয়েটরা ছবি তুলতে ব্যস্ত। কখনো সবাই মিলে ছবি তুলছেন আবার কখনো একা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব জায়গায় পদচারণা ছিলো তার কোনো স্থানই যেনো বাদ দিতে চান না গ্রাজুয়েটরা। কয়েক বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরে যেনো পরম মমতায় আলিঙ্গন করছেন ক্যাম্পাসকে। অনেকেই আবার এক সময় যে রুমটাতে কয়েক বছর ছিলেন সেখানে গিয়ে একটু দেখা করে আসছেন। এ যেনো বহু বছর পর আপন নীড়ে ফেরা। যে ক্যাম্পাস আজ তাদের গ্রাজুয়েট করে তুলেছে, দিয়েছে নতুন জীবন সেই ক্যাম্পাসে সবাই ফিরতে পেরে যেনো আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন।
এবার সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জয়শ্রী ভাদুড়ী। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের অনুভ‚তির সম্পর্কে তিরি বলেন, অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে এসে বেশ ভালোই লাগছে। বন্ধু-বান্ধব যারা ছিল তারা আবার ফিরে এসেছে। অর্থাৎ সন্ধ্যা হলে পাখি যেমন নীড়ে ফিরে আসে সেরকম ভাবে আবার ফিরে এসেছে। সকলের সাথে কুশল বিনিময়, ফটো সেশন সব কিছু চলছে। আমার মনে হয় প্রত্যেক বছর সমাবর্তন হওয়া হওয়া উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা কেবল মাত্র ১১তম সমাবর্তন চলছে। এটা যদি প্রত্যেক বছর হয় তাহলে জুনিয়র ও সিনিয়রদের মধ্যে যে সখ্যতা সেটা আরও শক্তিশালী হবে। আমাদের মধ্যে কেবল যারা অনার্স, বিএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে বের হয়ে গেছে তারা সমাবর্তনের সুযোগ পায়নি। প্রশাসনের এদিকে নজর দেওয়া উচিত যাতে অনার্স পাশের পর সবাই সুযোগ পায়।
সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, সমাবর্তনে অংশগ্রহনের স্বপ্ন সব গ্রাজুয়েটদেরই থাকে। সে স্বপ্ন আজ পূরণ হতে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে। এতো ভালো লাগছে যে ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। সব পুরনো বন্ধুদের আবার ফিরে পেয়েছি। গল্প করছি, ছবি তুলছি। সব মিলে একটি স্বপ্নের অধ্যায় পার করছি।
সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা অর্থনীতি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজ ইসলাম বলেন, সমাবর্তনে অংশ নেয়ার অনুভ‚তি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মমতাজ উদ্দীন কলা ভবন, প্যারিস রোড, লাইব্রেরি, টুকিটাকি চত্বর সব জায়গায় আবার হাটছি। যেনো আমি আমার সেই সময়ে ফিরে যাচ্ছি। সেই সাথে রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে সমাবর্তনে অংশ নেবো, পুরোটাই যেনো স্বপ্নের মতো লাগতেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরেক সাবেক শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে এসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। আমাদের এভাবে ক্যাম্পাসে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে।
এবারের সমাবর্তনে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী ৮ হাজার ৮১৪ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৩১ জন গ্রাজুয়েট। এর মধ্যে কলা অনুষদে এক হাজার ৪০২ জন, আইন অনুষদে ১৬১, বিজ্ঞান অনুষদে ৬৮৫ জন, বিজনেস স্ট্যাডিজ অনুষদে ৭৭৬, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৬২২, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৬১০, কৃষি অনুষদে ১১৫, প্রকৌশল অনুষদে ২৪৬ জন, চিকিৎসা থেকে ৩ হাজার ৫৯৭ জন পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেছে।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সভাপতিত্ব করবেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. রঞ্জন চক্রবর্তী। এদিন রাষ্ট্রপতির বিদায়ের পর বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপরেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবে প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী খুরশীদ আলম ও জিনিয়া জাফরিন লুইপা। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে থাকছে পুরান যুগের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী খুরশীদ আলম ও জিনিয়া জাফরিন লুইপা।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব