জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট (৯৩–৯৪ ব্যাচ) অ্যাসোসিয়েশন—জুয়াডা’র ২০২৫–২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ রেইনি রুফ টপে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচনস্থলে এসে এক হৃদ্যতাপূর্ণ মিলনমেলা তৈরি করেন।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আখলাখ আহম্মেদ। কমিশনে সদস্য সচিব ছিলেন মো. মোবারক হোসেন এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. গোলাম মোস্তফা, শাহনেওয়াজ মজুমদার, মো. মনিরুজ্জামান শামীম, খুরশিদ হাসান খান এবং মো. মনিরুজ্জামান মনি।
কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীদের পূর্বেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন এস এম জাকারিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন মো. ওয়াহিদুজ্জামান।
এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মিসেস রাশিদা পারভীন এবং মো. আব্দুল হালিম শাওন।
শুক্রবার শুধুমাত্র সভাপতি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. হাসান মাসুদ নিপু এবং খন্দকার মো. শরীফুল ইসলাম (চঞ্চল)। বিকেল ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আখলাখ আহম্মেদ ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট গৃহীত ২০১ ভোটের মধ্যে ১৩৩ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন মো. হাসান মাসুদ নিপু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার মো. শরীফুল ইসলাম চঞ্চল পান ৬৮ ভোট।
পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া জুড়ে আন্তরিক সহযোগিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। জুয়াডার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফারুক পাটোয়ারীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও উৎসাহব্যঞ্জক করে তোলে। দিনের শুরু থেকে ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বন্ধুসুলভ পরিবেশ, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দায়িত্বশীল ভোট পরিচালনা পুরো নির্বাচনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
শিক্ষার্থীরা জানান, নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাই নয়—এটি ছিল পুরনো দিনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলা এক উষ্ণ মিলনমেলা। দীর্ঘদিন পর ব্যাচমেটদের সঙ্গে দেখা হওয়া, আলাপচারিতা এবং মিলন আনন্দে ভোটের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
নির্বাচিত সভাপতি হাসান মাসুদ নিপু বলেন, “ব্যাচের ঐক্য, সৌহার্দ্য এবং সংগঠনের উন্নয়নই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” নতুন কমিটি ভবিষ্যতে ব্যাচের সদস্যদের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, নেটওয়ার্কিং ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, নির্বাচন একটি প্রক্রিয়া মাত্র। এখানে জয়-পরাজয় বলতে কিছু নেই। দিনশেষে আমরা সবাই বন্ধু। জয় হোক জুয়াডার, জয় হোক বন্ধুত্বের।