
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২১, ১৮:৫৮

জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চৌরাকররা এলাকায় অবস্থিত ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সুশিক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠিত করা হয় এটি।
‘বাতিঘর’ আদর্শ পাঠাগার এটি পরিচালিত হচ্ছে স্থানিয় কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের এক ঝাক তরুণ শিক্ষার্থীদের পরিচালনায়। তাদের নিজেদের তত্বাবধানে বই বিতরন করা বই ফেরত নেয়া সহ সকল কর্মকান্ড তারা নিজেরাই করে থাকে।
বাতিঘরের আলোয় আলোকিত হচ্ছে যমুনা, ধলেশ্বরীর চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। এক নিভৃত পল্লীর অন্ধকারে থাকা মানুষের পথপ্রদর্শক কাজ করছে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’।
‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন মো. কামরুজ্জামান। ওই সময় নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেন একটি পাঠাগার। নিজের ও সহপাঠিদের কাছ থেকে পাওয়া বই দিয়ে গড়ে তোলা পাঠাগারটি এখন দশ বছর অতিক্রম করেছে। পাঠাগারটিতে এখন প্রায় সাতশত বই।
করোনাকালীন ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষার বিপরীতে মেধা যাচাই হচ্ছে এই পাঠাগারে। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হচ্ছে যমুনা চরাঞ্চলের মানুষগুলো। স্থানীয় ছেলে, মেয়ে, কিশোর সবাই আসেন বই পড়তে। কখনো আসতে না পারলে ফোন করলেই বই চলে যায় তার বাড়িতে।
মাঝে মাঝে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা। যুবকদের মোবাইল বা ভার্চুয়াল আসক্তি কমিয়ে দিচ্ছে এই পাঠাগার। জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠাতা।

স্থানীয় তরুন পাঠকরা জানান, পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে আমাদের দশ বারো কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে শহড়ে গিয়ে বই পড়তে হত এখন এখানে আমরা খুব সহজেই বই পড়তে পারছি।
তারা বলেন, আগে আমরা অনেকেই মোবাইলে গেইম খেলে সময় কাটাতাম এখন গেইম না খেলে পাঠাগারে বই পড়ে ঁজ্ঞান অর্জন করছি। এবং অন্যদেরকেও আমরা উৎসাহিত করছি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষা বিমুখ মানুষকে বইমুখী করতে পাঠাগার বিশেষ ভূমিকা রাখে। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পাঠাগারের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। চরিত্র ও সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
এ ব্যপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে অবকাঠামো বই সহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দেন তিনি।
‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পাঠাগার বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।