বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশভেদে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউস নতুন এই নীতি কার্যকর করছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন শুল্ক নীতির আওতায় দেশটির মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য প্রভাবিত হবে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকোর পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে পূর্বনির্ধারিত শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট ১০ বা সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করে, যার মেয়াদ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হচ্ছে। একই সময় থেকে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ট্রানজিটে থাকা পণ্য আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্কের বাইরে থাকবে। আইনজ্ঞদের মতে, ৩০১ ধারায় গৃহীত সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলক কঠিন।
নতুন শুল্ক থেকে তেল-গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ২৩২ ধারার আওতাভুক্ত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্য অব্যাহতি পাবে।
এদিকে নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। কানাডা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, এতে পণ্যের দাম বাড়বে এবং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির দাবি, বাধ্যতামূলক শ্রম নির্মূলে বাণিজ্য অংশীদারদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জিনজিয়াং ইস্যুসহ দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কৌশলের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।