প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:২২
গ্যাস সংকটের উন্নতি না হওয়ায় গাজীপুরে শিল্পকারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সময়মতো অর্ডার সরবরাহ। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতনভাতা দিতে হচ্ছে। এতে শিল্পমালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে। জানা যায়, গাজীপুরে ছোট-বড় পাঁচ হাজারেরও বেশি পোশাক কারখানা, কলকারখানা রয়েছে। আর এর বেশির ভাগই গ্যাসনির্ভর। এক থেকে দেড় মাস এসব কলকারখানায় গ্যাস সংকট চলছে। বায়ার (ক্রেতা) ধরে রাখতে অনেকে ভর্তুকি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানা চালু রাখলেও বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকটে শ্রমিকরা ঠিকমতো শিডিউল মেলাতে পারছেন না। অনাহারে-অর্ধাহারে শ্রমিকরা কারখানায় এলেও গ্যাসের চাপ না থাকায় তাদের বেকার সময় পার করতে হচ্ছে। এ সংকটের সমাধান না হলে শতভাগ রপ্তানিমুখী শত শত পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, সফিপুর, চন্দ্রা, সদরের কাউলতিয়া, মির্জাপুর, বাহাদুরপুর, ভবানীপুর, পিরোজালী, বাংলাবাজার, শ্রীপুরের সদর, রাজাবাড়ী, বাঘের বাজার, জরিনাবাজার, মাওনা এবং এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট ছিল। গ্যাসের চাপ খুব কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোয়ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার পোশাক কারখানা সাদমা ফ্যাশন লিমিটেডে ছয় মাস ধরে গ্যাসের চাপ নেই। জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে সেই বিদ্যুৎ দিয়ে পোশাক কারখানার সব কাজ করা হয়। ডাইং ইউনিটটি গ্যাস দিয়ে চলে। গ্যাসের চাপ কমবেশি হওয়ায় অনেক সময়ই ডাইং মেশিনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক সময় লাইনে গ্যাস থাকেও না। ফলে কারখানাটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এমএম নিট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার ডিজিএম মনোয়ার হোসেন বলেন, পোশাক সেলাই করেছি। কিন্তু ফিনিশিং করতে পারছি না। অথচ নানা ধরনের ব্যয় হচ্ছে। আমাদের উৎপাদন ২৫-৩০ ভাগ কমে গেছে। কারখানার শ্রমিকরা যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস সমস্যায় একটা কাজ ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে আমাদের ১৫-১৬ ঘণ্টায় করতে হচ্ছে। ২৬ টন উৎপাদনের জায়গায় মাত্র সাড়ে ১১ টন হচ্ছে। ভোর ৩টা-৪টায় গ্যাসের চাপ একটু বাড়লেও মাত্র ১-২ ঘণ্টা থাকে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চল (বিসিক) এলাকার লাইফ টেক্সাইল (প্রাইভেট) লিমিটেড ও সফিপুর এলাকার ময়জউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেডের পার্সোনাল অফিসার এমডি হাসান বলেন, শুক্রবার গ্যাসের চাপ একটু ভালো থাকলেও শনিবার থেকে কমতে থাকে। সপ্তাহের অন্যসব দিন গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না। অনেক সময় তা শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। তখন মেশিন বন্ধ করে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয়। শ্রমিকদের এভাবে বসিয়ে রেখে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে এক-দেড় মাস গ্যাস সংকট চলছে। অথচ মাস গেলেই গ্যাস বিল আসছে কোটি টাকার ওপরে, শ্রমিকের বেতনভাতাও প্রায় ১১ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে।